রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধের অনুরোধ রাজউকের। মিরপুরে নকশা ছাড়াই ৪ তলা ভবন নির্মাণ, ৭ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত নোটিশ জারি কয়রায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ‍্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ  মানিকগঞ্জে২৫ বছরের সংসার ফেলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলের সাথে মুসলিম পরিবারের এক নারী চলে গেছে      জাইমা রহমানের জন্মদিনে বগুড়ায় দুই হাজার অসহায়কে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা আমরাও চাই হাসিনা দেশে ফিরুক, মানুষ তাঁর বিচার দেখতে চায়” : মীর শাহে আলম টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের কমিটি গঠিত  শ্রীপুরে বিজয়া দশমী উপলক্ষে সম্প্রীতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে পূজা মন্ডপে একজনকে পিটিয়ে গুরুতর জকম।  কালিহাতীতে বালু বিক্রির রাস্তা নিয়ে বিরোধ, আহত একাধিক মুরাদনগরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, সাবেক ইউপি সদস্যসহ আহত ৫

ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধের অনুরোধ রাজউকের। মিরপুরে নকশা ছাড়াই ৪ তলা ভবন নির্মাণ, ৭ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত নোটিশ জারি

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

 

 

 

 

নার্গিস রুবি: ঢাকা মহাপরিকল্পনার আওতাভুক্ত এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদিত নকশা ছাড়াই ভবন নির্মাণ করায় মিরপুরের দারুস সালাম এলাকার এক ভবন মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছে সংস্থাটি। নোটিশ জারির সময়ে ভবনটি ৩ তলা থাকলেও বর্তমানে তা ৪ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। পত্র জারির তারিখ থেকে মাত্র ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ অবকাঠামো ভেঙে অপসারণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী রাজউক নিজেই ভবনটি গুঁড়িয়ে দেবে এবং ভাঙার খরচ ভবন মালিকের কাছ থেকে আদায় করবে।

 

গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে স্মারক নং ২৫.৩৯.০০০০.০৯৯.৩২.২৭১.২৬.১০০৯(১) জারি করে রাজউকের জোনাল অফিস মহাখালীর অথরাইজড অফিসার মাসুক আহমেদ স্বাক্ষরিত এই চূড়ান্ত নোটিশে বলা হয়, মিরপুরের মাজার রোডের দ্বিতীয় কলোনির প্লট ৩৯/বি/বিতে মোঃ আল আমিন নামে এক ব্যক্তি ইমারতের নির্মাণকাজ চালাচ্ছেন। অথচ নির্মাণকাজের পূর্বে অনুমোদিত নকশা দাখিলের জন্য স্মারক নং ২৫.৩৯.০০০০.০৯৯.৩২.২৭১.২৬.৮০৩ নং পত্রে গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে প্রথম নোটিশ এবং পরে স্মারক নং ২৫.৩৯.০০০০.০৯৯.৩২.২৭৭.২৬.৯১১ নং পত্রে ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ কোনো জবাব দেয়নি, অনুমোদিত নকশাও দাখিল করেনি। এমনকি বিধি অনুযায়ী ন্যূনতম সেটব্যাক বা নির্ধারিত সীমানাও রাখা হয়নি।

 

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ ইমারত নির্মাণ আইন, উনিশ শো বাউন্নো (তৎসংশোধনীসহ) এর তিনের বি ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আইনের এই ধারা অনুযায়ী কোনো ভবন অনুমোদন ছাড়া বা অনুমোদনের শর্ত ভঙ্গ করে নির্মিত বা নির্মাণাধীন হলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মালিক, দখলদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নোটিশ দিয়ে ন্যূনতম সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলতে পারেন। কারণ দেখানো ব্যর্থ হলে বা শুনানির পর প্রতিষ্ঠিত হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া যায়। তবে আইনের ৩/বি ধারার ৫ নম্বর উপধারায় একটি স্বস্তির বিধানও আছে। অনুমোদন না পাওয়া যায় এমন ভবন না হলে অথবা পাশাপাশি জমি বা রাস্তার ব্যবহারে অসুবিধা না হলে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে, নির্দেশনা মেনে সংশোধন করে এবং নির্ধারিত ফির ১০ গুণ ফি পরিশোধ করে নকশার অনুমোদন নিয়ে ভবনটি নিয়মিত করার সুযোগও রয়েছে।

 

চূড়ান্ত নোটিশে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে অবৈধ অবকাঠামো ভেঙে না ফেললে আইনের ৭ ধারা মোতাবেক কর্তৃপক্ষ ভবনটি ভেঙে অপসারণ করবে এবং প্রয়োজনে প্রয়োগযোগ্য শক্তিও ব্যবহার করা হবে। ভাঙার ব্যয় ভবনের মালিকের কাছ থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারায় জরিমানা আদায়ের পদ্ধতিতে উদ্ধার করা হবে। এ ছাড়া অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করলে আইনের বারো ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড অথবা ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। আদালত প্রসিকিউশনের আবেদনে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে ভবন ভেঙে ফেলারও নির্দেশ দিতে পারেন, যা না মানলে আদালত নিজে ভাঙার আদেশ দিয়ে ব্যয় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করতে পারেন।

 

জানতে চাইলে নোটিশে স্বাক্ষরকারী রাজউক জোনাল অফিসের অথরাইজড অফিসার মাসুক আহমেদ বলেন, দুটি ধাপে নোটিশ দিয়েও মালিকপক্ষ সাড়া দেয়নি এবং কোনো জবাব দাখিল করেনি, এমনকি অনুমোদিত নকশাও দেখানো হয়নি। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই চূড়ান্ত নোটিশ জারি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন ভেঙে ফেলা না হলে আইনের ৭ ধারা মোতাবেক কর্তৃপক্ষ নিজে ভেঙে অপসারণ করবে এবং সব খরচ মালিকের কাছ থেকে আদায় করা হবে। সেটব্যাকের শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টিও গুরুতর বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অবৈধ নির্মাণ বন্ধে রাজউকের অভিযান অব্যাহত আছে এবং মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সংস্থার কাজ।

 

আইনজীবীরা জানান, আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী ৩/বি ধারার আদেশের বিরুদ্ধে নাগরিক আদালতে যেতে পারবেন না, তবে ১৫ ধারা অনুযায়ী আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করার সুযোগ আছে এবং আপিলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে আপিল চলাকালেও ভবন ভাঙার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে কি না, তা নির্ভর করে আপিল কর্তৃপক্ষের আদেশের ওপর।

 

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে পৃথক অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। স্মারক নং ২৫.৩৯.০০০০.০৯৯.৩২.২৭৭.২৬.১০০৯(১) নং পত্রে গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে পাঠানো এই অনুলিপিতে ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ, সংরক্ষণ ও অপসারণ বিধিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী ওই নির্মাণাধীন ইমারতে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসসহ কোনো ধরনের ইউটিলিটি সেবা সরবরাহ না করতে অনুরোধ করা হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ডেসকো, ঢাকা ওয়াসা ও তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের। এ ছাড়া দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাঠানো অনুলিপিতে নির্মাণাধীন ইমারটের সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনা শাখার সদস্য এবং উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালকদেরও অবগত করা হয়েছে।

 

ভবন মালিক মোঃ আল আমিনের বক্তব্য জানা যায়নি।

 

উল্লেখ্য, ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ মূলত এলাকার পরিকল্পনা বিনষ্টকারী এলোমেলো নির্মাণ রোধের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একাধিক সংশোধনীর মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে। ঢাকা মহাপরিকল্পনার আওতাভুক্ত এলাকায় অনুমোদিত নকশা ছাড়া বা শর্ত লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ আছে, অনেক ক্ষেত্রেই উচ্ছেদের হুমকি সত্ত্বেও নানাভাবে নির্মাণকাজ চলে যায়। ফলে রাজউকের এই চূড়ান্ত নোটিশ বাস্তবে কার্যকর হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews