
মো.হাইউল উদ্দিন খান,গাজীপুর প্রতিনিধি
চার বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু গাজীপুরের মানুষের হৃদয় থেকে এখনো মুছে যায়নি সেই শোকের নাম,অধ্যাপক এম. এ. মান্নান।
আজ ২৮ এপ্রিল, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং মাটি ও মানুষের প্রিয় এই নেতার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী।
সময় এগিয়েছে, শহর বদলেছে, উন্নয়নের চিত্রও পাল্টেছে,তবুও গাজীপুর যেন আজও এক গভীর শূন্যতার ভেতর দাঁড়িয়ে আছে।
২০২২ সালের এই দিনে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেও জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে গেছেন এই জননেতা।
তার চলে যাওয়া যেন শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিদায় ছিল না,ছিল একটি সময়ের, একটি আস্থার, একটি ভালোবাসার নিঃশব্দ পতন। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা মান্নান ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন গাজীপুরের মানুষের আস্থার প্রতীক।
১৯৯১ সালে গাজীপুর-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। পরে ধর্ম ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বেও রেখেছেন দক্ষতার ছাপ।
২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি নগর উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেন। তার নেতৃত্বে গাজীপুর পেয়েছিল পরিকল্পনা, স্বপ্ন আর পরিবর্তনের গতি। কিন্তু এই পথ ছিল সংগ্রামমুখর,মামলা, গ্রেফতার, কারাবাস, সবকিছুর মধ্যেও তিনি ছিলেন অবিচল, জনগণের প্রতি অটল আস্থার প্রতীক।
আজ তার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে গাজীপুরজুড়ে নেমে এসেছে নীরব শোকের ছায়া। মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন দোয়া মাহফিল, কোরআন খতম ও স্মরণ সভার আয়োজন করেছে।
রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই স্মরণ করছেন তাদের প্রিয় “মান্নান স্যার”-কে।
তবুও গাজীপুরের বাতাসে ভেসে বেড়ায় একটাই অনুভব—একজন মানুষ হয়তো চলে যান, কিন্তু কিছু মানুষ চলে যাওয়ার পরও থেকে যান শহরের প্রতিটি স্পন্দনে, প্রতিটি নীরবতায়, প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসে।
চার বছর পরও তাই গাজীপুরের একটাই নীরব প্রশ্ন,এই শূন্যতা কি আদৌ কখনো পূরণ হবে?