
মো.হাইউল উদ্দিন খান,গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী পূবাইল বাজার পশুর হাটকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক এখন নতুন মোড়ে পৌঁছেছে। একের পর এক দৈনিক প্রতিদিনের কাগজে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
বিতর্কিত বাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার দূর্নীতিগ্রস্থ আবদুল হাই শিকদারের দেয়া কথিত “মিথ্যা প্রতিবেদন” বাতিল করেছেন গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ রোববার (১৭ মে) স্বয়ং গাজীপুর সদর ভূম সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) মো.মঈন খান এলিস সরেজমিন তদন্তে যাচ্ছেন পূবাইল ভূমি অফিস ও ছোট কয়ের ব্রিজের গোড়ায় প্রস্তাবিত কোরবানির পশুর হাট এলাকায়। অনেকে বলছেন এবার হয়তো পূবাইল বাজারে পাশে ছোট কয়ের ব্রীজের গোড়ায় প্রস্তাবিত কোরবানির পশুর হাট চিরতরে বন্ধ হবে।এমনটাই আশা করছেন পূবাইলবাসী।তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে অপেক্ষা করতে হবে সোমবার বিকাল পর্যন্ত।
অন্যদিকে পুরো ঘটনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সোমবার বিকাল ৫টার মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পূবাইল বাজারের দীর্ঘ ৫৪ বছরের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটকে দুর্বল করতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে “বিকল্প হাট” বসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আর সেই অপচেষ্টার অংশ হিসেবেই ছোট কয়ের ব্রিজের গোড়ায় নতুন হাটের পক্ষে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল।
‘মসজিদের নামে হাট’, নাকি লাখ লাখ টাকার নিয়ন্ত্রণ যুদ্ধ?
স্থানীয় ব্যবসায়ী, ইজারাদার আফজাল হোসেন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ,পূবাইল বাজার পশুর হাটের ইজারা না পেয়ে ক্ষুব্ধ একটি সিন্ডিকেট এখন “মসজিদের উন্নয়ন”, “জনস্বার্থ” ও “বিকল্প হাট”-এর কথা বলে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
তাদের ভাষায়,এসবই মূলত বাহানা। প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে লাখ লাখ টাকার পশুর হাট নিয়ন্ত্রণে নেয়া।
এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন, ছোট কয়ের ব্রিজের গোড়ায় নতুন হাট অনুমোদন পেলে পূবাইল বাজারের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে। একইসঙ্গে একই এলাকায় একাধিক পশুর হাট বসলে ভয়াবহ যানজট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়বে।
আজকের তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে—
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এসিল্যান্ডের সরেজমিন তদন্তে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশেষভাবে যাচাই করা হবে,
প্রস্তাবিত হাটের প্রকৃত অবস্থান ও সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য
পূবাইল বাজার পশুর হাট থেকে দূরত্বের বাস্তব চিত্র,যানজট ও জনদুর্ভোগের সম্ভাবনা,স্থানীয় জনমত ও ব্যবসায়ীদের আপত্তি এবং বিতর্কিত প্রতিবেদনে তথ্য গোপনে তহসিলদার আবদুল হাই শিকদারের ভূমিকা।
জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুরো এলাকা—-
এখন পুরো পূবাইল-কয়ের এলাকায় একটাই প্রশ্ন,ছোট কয়ের ব্রিজের গোড়ায় নতুন পশুর হাটের অনুমোদন মিলবে, নাকি ঐতিহ্য ধরে রাখবে পূবাইল বাজার?
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রকৃত তদন্ত হলে “মিথ্যা প্রতিবেদন” তৈরির নেপথ্যের পুরো সিন্ডিকেট উন্মোচিত হবে।
তাদের ভাষায়,পূবাইল বাজার পশুর হাটের বিকল্প অতীতেও ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না। মাঝখানে শুধু জঙ্গলে মঙ্গল খোঁজা আর মসজিদের নাম ব্যবহার করে পকেট ভারী করার অপচেষ্টা চালানো যাবে।