
লালমনিরহাট প্রতিনিধি –
মোঃ রব্বানী ইসলাম
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে গরীব-দুঃখীদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির চাল যুবদলের খেলার জন্য বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২৪ মে) ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় কয়েকটি ভ্যানে করে ৮ থেকে ১০ বস্তা করে চাল যুবদলের খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ বস্তা চাল সুকৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
গত রবিবার (২৪ মে)লালমনিরহাটের দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১,৪০০ জন সুবিধাভোগীকে ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, এই চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ইউপি সচিব ও সদস্যদের যোগসাজশে প্রকৃত গরীবদের বঞ্চিত করে প্রায় ৫০ বস্তা চাল সরিয়ে নেওয়া হয়, যার মধ্যে ৮-১০ বস্তা চাল সরাসরি ভ্যানে করে যুবদলের খেলার জন্য পাঠানো হয়। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন দহগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব রাজু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুর ইসলাম এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিরসহ আরও অনেকে।
গত ৫ই আগস্টের পর থেকে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগপন্থী চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন। ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যানও প্রায়শই অনুপস্থিত থাকেন। এই পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয় পাটগ্রাম উপজেলা শিক্ষা অফিসার হামিদ সরকারকে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেদিন ১৪০০ মানুষকে চাল বিতরণ করা হয়, সেদিন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, প্রশাসক কিংবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ইউপি সদস্যরা নিজেদের ইচ্ছেমতো এই চাল বিতরণ করেন।
এই অনিয়মের কথা মুঠোফোনে অকপটে স্বীকার করেছেন দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মইনুল। তিনি বলেন,আমরা তো দল করি, আমাদের দলের দায়িত্বশীলরা সেখানে ছিলেন। চেয়ারম্যান যেহেতু আওয়ামী লীগ করেন, তিনি পলাতক। আর প্রশাসকও সেদিন আসেননি। যুবদলের নামে সরাসরি চাল দেওয়া হয়নি; তারা আমাদের কাছে ভোটার আইডি কার্ড দিয়েছিল, আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ডের তালিকায় তাদের নামগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম। সেখান থেকেই তারা চাল পেয়েছে।
অভিযুক্ত দহগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব রাজু কে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রবীন্দ্রনাথ বর্মন এই কাজের সাফাই গেয়ে বলেন,যুবদলের লোকজন আইডি কার্ড জমা দিয়েছে, তাই আমরা তাদের চাল দিয়েছি। তারাও তো গরীব-দুঃখী মানুষ।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থাকা প্রশাসক ও পাটগ্রাম উপজেলা শিক্ষা অফিসার হামিদুল সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পাটগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলেন,আমি যেহেতু আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম, তাই ওই ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট প্রশাসককে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জেনে আপডেট জানাব। তবে পরবর্তীতে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন,বিষয়টি আমি ইতিমধ্যেই পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কী বেরিয়ে আসে তার ওপর ভিত্তি করে আমরা কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি/মোঃ রব্বানী ইসলাম
তারিখ ; ২৬-০৫-২০২৬_