রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তানোরে নারী এনজিও কর্মীর ঘরে কর্মকর্তা আটক! খুলনা প্রসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত ‎ শাহজালালে একদিনে চার ফ্লাইটে অভিযান: স্বর্ণ-মদসহ ৪২ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ শিবগঞ্জে নানা কর্মসূচিতে পালিত হলো মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পটুয়াখালীতে বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত পটুয়াখালীতে কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পেলেন ৫৩৮ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী কালিহাতীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী পালিত পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু চুড়ান্ত নোটিশ উপেক্ষা করে রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনায় ৮ তলা ভবন নির্মাণ চলমান ভবন মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়েরের বিধান থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না রাজউক বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদের জায়গা হবে না: শামা ওবায়েদ

চুড়ান্ত নোটিশ উপেক্ষা করে রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনায় ৮ তলা ভবন নির্মাণ চলমান ভবন মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়েরের বিধান থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না রাজউক

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

 

 

 

নার্গিস রুবি: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক উত্তরা জোনাল অফিস ২/২ এর আওতাধীন দক্ষিণখানের আশকোনা হজ্জক্যাম্প এলাকায় ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৮ তলা ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভবনটি বাড়ি নম্বর ৭২০, আশকোনা হজ্জক্যাম্প, দক্ষিণখান, ঢাকায় অবস্থিত। জমির সি.এস খতিয়ান নম্বর ৬০৪৮, এম.এস খতিয়ান নম্বর ২৮৭০ এবং জমির পরিমাণ ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সোনালী গার্ডেন গৃহায়ন লিমিটেডকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনটির চতুর্পাশে অতিমাত্রায় নকশা বিচ্যুতি ঘটিয়ে ডেভিয়েশন করে নির্মাণ কাজ চলছে। ভবনের সামনে নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্যসম্বলিত কোনো সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়নি। এছাড়া নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য সেফটি নেট ও সেফটি গার্ড এবং পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য সেফটি বেরিগেট ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। খোলা সাইটে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় শ্রমিক ও পথচারীরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

 

এ বিষয়ে রাজউক জোন ২/২ এর অথরাইজড অফিসার হাসানুজ্জামান এবং ইমারত পরিদর্শক অমল চন্দ্র মজুমদার জানান, ভবনটিতে নকশার ব্যত্যয় রয়েছে এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবনটি ব্যত্যয় থাকার কারণে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে পরপর তিনটি নোটিশ প্রদান করা হয়েছে নকশা মঞ্জুরি নোটিশ, কারণ দর্শানোর নোটিশ, এবং চূড়ান্ত নোটিশ তারপরও তারা ভবনের ব্যত্যয়কৃত অংশ ভেঙে অপসারণ করেনি। তবে কাগজে কলমে নোটিশ দেওয়া হলেও গত কয়েক মাস ধরে কোনো উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। নোটিশ দেওয়ার পরও ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়নি এবং পরিদর্শক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। ফলে রাজউকের তদারকি কার্যক্রম শুধু নোটিশ জারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

 

বর্তমানে বাংলাদেশে ভবন নির্মাণ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রধান আইন হলো ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এবং পরবর্তীতে প্রণীত বিভিন্ন বিধিমালা। এছাড়া রাজউকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৭ এর বিভিন্ন ধারায়। ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এর ধারা ৩ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত নকশা ও অনুমোদন ব্যতীত কোনো ইমারত নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ বা সম্প্রসারণ করতে পারবে না। একই আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী, কোনো ইমারতের নির্মাণকাজ নির্ধারিত নকশা লঙ্ঘন করে বা অনুমোদনহীনভাবে চলমান থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারে এবং প্রয়োজনে ভবনটি ভেঙে ফেলার ক্ষমতা রাখে। ধারা ৬ অনুযায়ী, এই আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৮৬০ এর ধারা ১৮৮ অনুযায়ী শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে মামলা রুজু করা যেতে পারে। একইসাথে ধারা ৭ অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘনকারীকে অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৭ এর ধারা ২৬ অনুযায়ী, রাজউক যেকোনো অননুমোদিত বা নকশাবহির্ভূত নির্মাণকাজ বন্ধ করতে এবং ভবনটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিতে পারে। একই আইনের ধারা ৩৫ অনুযায়ী, রাজউকের নির্দেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী, নির্মাণকাজের সময় নির্মাণ স্থলে সাইনবোর্ড স্থাপন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি ব্যবহার এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ স্থগিত ও জরিমানা আরোপ করতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ সংশোধিত ২০১৮ অনুযায়ী নির্মাণ সাইটে শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যতামূলক।

 

রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভবনটিতে নকশা বিচ্যুতি সনাক্ত হওয়ায় দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রত্যাশিত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নির্মাণকাজ স্থগিতকরণ নোটিশ জারি, অননুমোদিত অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ এবং জরিমানা আরোপ। কিন্তু বাস্তবে নোটিশ দেওয়ার পরও নির্মাণ কাজ অব্যাহত থাকায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে এই ভবনের নির্মাণ কাজ চলাকালীন তাদের দৈনন্দিন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং ভবনটি পড়ে গেলে পাশের ভবনগুলোতেও হুমকির সৃষ্টি হতে পারে। শ্রমিকরাও নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে অননুমোদিত ও নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজউক ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন শুধু নোটিশ দিয়ে কোনো লাভ হচ্ছে না, মাঠ পর্যায়ে কার্যকর শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবন নির্মাণের সময় প্রতি পর্যায়ে তদারকি নিশ্চিত করতে হবে এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। জনস্বার্থে এই ভবনের নির্মাণ কাজ অবিলম্বে বন্ধ করে নকশা যাচাই এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

ভবন মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানি সোনালী গার্ডেন গৃহায়ন লিমিটেডের পক্ষ থেকে কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews