
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বন্দর এলাকার বাতাসে বিষাক্ত ধোঁয়ার মতো ছড়িয়ে পড়া গুজবের বেড়াজাল চিরে সরেজমিন অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয়েছে এক থমথমে সততার কঠিন বাস্তবতা, যেখানে অসত্যের ফেনা তুলে সৎ অফিসারদের বিরুদ্ধে সাজানো হয়েছে বিষোদ্গারের কাল্পনিক উপাখ্যান। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের আনস্টাফিং সেকশনে নিয়ম-নীতির সুদৃঢ় শেকল পরিয়ে রাজস্ব ফাঁকির চোরাগলি বন্ধ করে দেওয়ায় সহকারী কমিশনার ওমর কাওসার ও রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাসের ওপর আছড়ে পড়েছে আক্রোশের হিংস্র ঢেউ।
স্বার্থান্বেষী মহলের সাজানো নাটকে যাদের ‘ক্ষমতার অন্ধ কানুন’ বা ‘রক্ত চুষে খাওয়ার সিন্ডিকেট’ বলে চিত্রিত করার ব্যর্থ কসরত চালানো হয়েছে, কাজের প্রাঙ্গণে তাদের ছায়া ঢেকে আছে কড়া সততা আর নিয়মানুগ আপসহীনতার সুদৃঢ় বর্ম দিয়ে। পিসিটিসহ আনস্টাফিং গেটগুলোতে শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্রের অবৈধ সুবিধা পাওয়ার পথ চিরতরে রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভ্রান্তির কুয়াশা ছড়িয়ে কাল্পনিক চাঁদা দাবি ও অযথা কালক্ষেপণের জাঁতাকলে পিষ্ট করার বানোয়াট বয়ান তৈরি করা হয়েছে। অথচ সরজমিন অনুসন্ধানে তথ্যের কণা পরিমাণ সত্যতা মেলেনি; বরং কাস্টমসের স্বয়ংক্রিয় প্রটোকল ও কঠোর তদারকির কারণে ব্যক্তিগত খামখেয়ালিপনা কিংবা ফন্দিফিকিরের কোনো অবকাশই এখানে অবশিষ্ট নেই।
সাধারণ আমদানিকারক ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি সশ্রদ্ধ চিত্তে অকপটে স্বীকার করেছেন, সহকারী কমিশনার ওমর কাউসার ও রাজস্ব কর্মকর্তা সুমন কান্তি বিশ্বাস অত্যন্ত সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিত্ব, যাঁদের সততার ধারালো কলমের মুখ থেকে বাঁচতে না পেরে অসৎ ব্যবসায়ীরা এই ভিত্তিহীন অপপ্রচারের অপকৌশল বেছে নিয়েছে। ভুল তথ্যে রাজনৈতিক ও আঞ্চলিকতার গন্ধ শুঁকে সাবেক রাষ্ট্রপতির নামে অপবাদ ছড়িয়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে ফেলার এই কুরুচিপূর্ণ নীলকৌশল কাস্টমসের সুশৃঙ্খল অঙ্গনে কোনো দাগ ফেলতে পারেনি। রাতের অন্ধকারে ডেমারেজের ভয় কিংবা মৌখিক আদেশের যে কাল্পনিক ফ্যান্টাসি নিউজে পরিবেশন করা হয়েছিল, সরেজমিনে দেখা গেছে তার পুরোটাই ভুয়া চালানের ফাঁকি রুখে দেওয়ার মহৎ পদক্ষেপকে আড়াল করার এক ব্যর্থ প্রতিশোধের আগুন।
সরকারি আমলাতন্ত্রের গোলকধাঁধায় শুল্কের সঠিক চাকা ঘোরাতে গিয়ে যারা অকাতরে নিজেদের বিলিয়ে দিচ্ছেন, তাদের রাজনৈতিক তকমায় কালিমালিপ্ত করার চক্রান্তে মুখ থুবড়ে পড়েছে অসৎ সিন্ডিকেট।