1. : blogprofile : Kazi Aslam
  2. info@dainikgonatadanta.com : দৈনিক গণতদন্ত :
April 22, 2026, 2:57 pm

দেশজুড়ে সক্রিয়তা ও কর্মদক্ষতায় প্রশংসিত এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, April 22, 2026,
  • 43 Time View

 

মোঃ আসাদুল ইসলাম, বগুড়া প্রতিনিধি:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের অতিক্রান্ত হলো প্রথম ৬০ দিন। সময়ের হিসেবে খুব বেশি নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র মেরামতের জন্য নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ৩১ দফার বাস্তবায়নে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দিন-রাত। আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই পথ চলার সারথি হিসেবে কাজ করছেন অনেকেই।

তেমনি একজন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তিনি অল্প সময়েই কর্মচাঞ্চল্য, দৃঢ়তা, দায়িত্বশীলতা আর মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতায় লিখে চলেছেন এক নতুন প্রত্যাশার গল্প। সফলতার সাথে বাস্তবে রুপ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৩১ দফার।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব পেয়ে বগুড়ার মানুষের মনে যে স্বপ্ন জেগেছিল, তা যেন দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তিনি কেবল দপ্তরের ফাইলে সীমাবদ্ধ থাকেননি; নেমে গেছেন সরাসরি মাঠে, মানুষের মাঝে, সমস্যার কেন্দ্রে।

গাজীপুরের কাশিমপুরে উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়া সড়ক এ যেন ছিল দায়িত্বজ্ঞানহীনতার নগ্ন উদাহরণ। কিন্তু সেই ঘটনায় সরেজমিনে গিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে তিনি দেখিয়ে দেন, অনিয়ম আর গাফিলতির কোনো জায়গা নেই। শুধু নির্দেশ দিয়েই থেমে থাকেননি, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছেন। একইভাবে বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন উন্নয়ন মানেই শুধু কাজ শেষ করা নয়, বরং সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করা।

রাজশাহীতে গিয়ে তিনি শুধু একটি সভা করেননি, এঁকেছেন একটি স্বপ্ন একটি আধুনিক, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরীর। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকা সেতু দেখে তিনি যে তাগিদ দিয়েছেন, তাতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় মানুষ।

ঢাকায় খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করিয়েছেন, উন্নয়ন মানে শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামো নয়। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জিয়া সরণি খাল ও শ্যামপুর খালের মতো প্রকল্পে তার সরাসরি তদারকি রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন গতি আনবে বলেই প্রত্যাশা। টাঙ্গাইলের বাজার পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান আবারও প্রমাণ করে তিনি আপসহীন। সিলেট বিভাগ সফরে তিনি সিলেটের ভাগ্য উন্নয়নে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন। কারো আশায় না থেকে নিজে সরজমিনে দেখেছেন।

ক’দিন আগে সকাল ৯টার আগেই এলজিইডি ভবনে উপস্থিত হয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি তদারকি করেন তিনি। এটি ছিল একটি প্রতীকী পদক্ষেপ, কিন্তু এর বার্তা ছিল গভীর। দায়িত্বে অবহেলা আর সহ্য করা হবে না এই বার্তাই এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দিয়েছেন পুরো প্রশাসনকে।

ব্যস্ততার মাঝেও তিনি ভুলে যাননি তাঁর নিজ এলাকা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) এর মানুষকে। বিলহামলা খাল পুনঃখনন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ সবকিছুতেই তিনি রেখেছেন মানবিক স্পর্শ। মানুষের সঙ্গে তাঁর এই হৃদয়ের সম্পর্কই তাঁকে আলাদা করে তোলে। একদিকে উন্নয়ন কর্মকান্ড তদারকি, অন্যদিকে নিজ এলাকার মানুষের প্রতি ভালবাসা ও দায়বদ্ধতায় তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

দায়িত্ব নেওয়ার পর দলীয় পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানো এটি শুধু একটি সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি বার্তা। প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা বিরল।

তাঁর প্রচেষ্টায় বগুড়া পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে যা এই অঞ্চলের মানুষের বহুদিনের দাবি ছিল। পাশাপাশি বগুড়ার ১৩তম উপজেলা হিসাবে মোকামতলা উপজেলা গঠনের পেছনেও তাঁর নিরলস কাজ রয়েছে।

মহান জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর তাঁর বক্তব্য তাঁকে এনে দিয়েছে ব্যাপক প্রশংসা। তাঁর শানিত যুক্তি, দৃঢ়তা ও উপস্থাপনা রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি যেমন হয়েছেন প্রশংসিত, তেমনি যুক্তি দিয়ে ভীত নাড়িয়ে দিয়েছেন বিরোধী দলের।

মাত্র ৬০ দিনে এলজিইডি, জনস্বাস্থ্য, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের চিত্রে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান, কাজের গতি বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ফিরছে শৃঙ্খলা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়ায়। কিন্তু বগুড়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে মন্ত্রিত্বের সুযোগ খুব একটা আসেনি। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া সদর আসন থেকে নির্বাচিত অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান অর্থ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে এই জেলার আর কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।

৩৫ বছর পর এই জেলা থেকে মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালনরত মীর শাহে আলমের তাই এখনও পথ অনেক বাকি। চ্যালেঞ্জও কম নয়। কিন্তু শুরুটা যদি এমন শক্ত, স্বচ্ছ এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতায় ভরা হয় তবে আশার জায়গা তৈরি হয়। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির এই ৬০ দিনের কর্মযজ্ঞ শুধু একটি সময়ের হিসাব নয়, এটি একটি বার্তা । দায়িত্ব যদি আন্তরিকতা দিয়ে পালন করা হয়, তবে পরিবর্তন সময় নেয় না শুধু প্রয়োজন সদিচ্ছা আর সাহস।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট