
বুলবুল হাসান পাবনা জেলা প্রতিনিধি : পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় আসা অথবা যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাটারী টালিত অটো রিক্সা ব্যবহার করতে হয়। বাসের শিডিউলের সাথে ক্লাসের সময়ের না মেলার কারণে প্রতিদিন শিক্ষার্থীকে এই বাহনে চলাচল করতে হয়। অটোরিক্সাগুলো আসা যাওয়ার সময়ে হাইওয়ে পুলিশের হয়রানীতে শিক্ষার্থীদের পাবনা কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনাল থেকে পায়ে হেটে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পাবনা শহরসহ আশপাশ থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এসে সেখান থেকে ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা যোগে ক্যাম্পাসে যাওয়া ও ক্লাস ধরার জন্য যাওয়ার সময়ে মহাসড়তে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশ অটোগুলোর গতিরোধ করে আটকে দিচ্ছে। দিচ্ছে তাদের মামলা। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু অটো রিক্সা যাতায়াত করলেও পুলিশ পেট্টালিং ডিউটি দেওয়ার সময়ে রাস্তায় আর কোন অটোরিক্সা চলাচল না করায় মহাভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।পুলিশের এমন আচরণে চরম হয়রানী ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা বলে অভিযোগ উঠেছে।
ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা চালকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের অনুরোধে আমরা ক্যাম্পাসের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশী হয়রানীতে মহাবিপাকে পড়েছি। পুলিশ ধরে ধরে অটোরিক্সাগুলো তাদের ফাঁড়িতে নিচ্ছে। দিচ্ছে মামলা। অটো চালকদের গুনতে হয় ২ হাজার ৬০০ টাকা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত বাসের পরবর্তী যাতায়াতের বাহন হলো অটোরিক্সা। কিন্তু যাতায়াতের সময় প্রায় দেখা যায় পুলিশ গাড়ি ধরছে। তখন দুর থেকে খবর পেলেই অটো রিক্সা চালক তাদের নামিয়ে দেয়। আবার এমনও হয় পুলিশই গাড়ি আটকিয়ে তাদের নামিয়ে দেয়। তারা তাদের ক্লাস-পরীক্ষার কথা বললেও পুলিশ কখনো সদয় হয়না। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে অনেকের যাদের পরীক্ষা থাকে তাদের দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় এমন পরিস্থিতিতে। এর আগে টার্মিনাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পুলিশ পেট্রোলিং না করার আশ্বাস দিলেও নতুন করে আবার তা শুরু করেছে হাইওয়ে পুলিশ।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রনি বলেন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। শিক্ষার্থীদের ক্লাস শিডিউল আর বাসের শিডিউলের মিল অমিল রয়েছে। যার ফলে অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন অটো রিক্সায় যাতায়াত করতে বাধ্য হন ।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনাল টু পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গামী অটোরিকশা আটক করে থাকে। আইনানুযায়ী আটক করলেও এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির সম্মুখীন হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দেখা যায় ক্লাসে সময়মত পৌছাতে পারছে না। কারও কারও পরিক্ষার হলে পৌছাইতেও দেরী হয়। তিনি বলেন, প্রশাসন এটার যথোপযুক্ত একটা উদ্যোগ গ্রহণ করুক যাতে করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ভোগান্তির হাত থেকে রেহাই পায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর কামাল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তির বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই আমি পাবনা জেলা পুলিশ সুপার ও হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (আতাইকুলা) এর সাথে কথা বলেছি। তারা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা ভেবে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, এখন থেকে টার্মিনাল-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বহনকারী অটো রিকশাগুলো আর তারা আটকাবেনা।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিক্ষার্থিদের অসুবিধা ও অভিযোগ সম্পর্কে
বলেন, এটা তো আইন তাদের হাইওয়ে সড়কে উঠা নিষেধ। আইন সবার জন্য সমান, আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। তারপর ও আমি কয়েকদিনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে বসে বিষয়টা শিথিল করার চেষ্টা করব।