
মো.হাইউল উদ্দিন খান,গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালককে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে ঘাতক স্বামী। শুক্রবার দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে এই নৃশংস ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ঘাতক স্বামী ফুরকান মিয়া ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
নিহতরা হলেন, ঘাতক ফুরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৩৮), তাদের বড় মেয়ে মিম খানম (১৪), মেজো মেয়ে উম্মে হাবিবা (৮), ছোট মেয়ে ফারিয়া (২), শারমিনের ছোট ভাই (শ্যালক) রসুল মোল্লা (২২)।
নিহতদের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামে। তারা রাউৎকোনা এলাকায় প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করতেন। অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া একই জেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের আতিকুর রহমানের ছেলে এবং পেশায় একজন গাড়িচালক।
সরেজমিনে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের ধরন ছিল অত্যন্ত বর্বরোচিত। ঘরের জানালার গ্রিলের সঙ্গে স্ত্রী শারমিনের দুই হাত বাঁধা ছিল এবং তার মুখমণ্ডলে রক্তের দাগ ছিল। ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল তিন শিশুর নিথর দেহ। খাটের ওপর পড়ে ছিল শ্যালক রাসুলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ। চারজনকে গলা কেটে এবং দুই বছরের শিশু ফারিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিটি লাশের পাশে একটি করে রহস্যময় কাগজ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
নিহত শারমিনের স্বজনদের দাবি, ফুরকান মাদকাসক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের জন্য শারমিনের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
আত্মীয় ইভা রহমান সাংবাদিকদের জানান, পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। অন্য এক আত্মীয় জানান, শ্যালক রসুলকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আগের দিন ডেকে এনেছিলেন ফুরকান।
খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, ঘটনাস্থল থেকে মামলার নথিপত্র সদৃশ কিছু কাগজ এবং মাদক সেবনের আলামত জব্দ করা হয়েছে। লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন জানান, ঘাতক ফুরকান হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর ফোনের মাধ্যমে একজনকে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। বর্তমানে পুলিশ ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দু’জনকে আটক করা হয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে একাধিক তদন্ত সংস্থা অভিযান পরিচালনা করছে।
এই চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো রাউৎকোনা গ্রামসহ গাজীপুর জেলাজুড়ে শোকের ছায়া ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।