1. live@www.dainikgonatadanta.com : দৈনিক গণতদন্ত : দৈনিক গণতদন্ত
  2. info@www.dainikgonatadanta.com : দৈনিক গণতদন্ত :
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রস্তুত ঐতিহ্যবাহী পূবাইল বাজার পশুর হাট ; কোরবানির কেনাবেচা শুরু কাল এক মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীরা, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্ত ভোগী পরিবার।  বোরিতে এডমিরাল (অব.) খুরশীদ আলমের ছত্রচ্ছায়ায় এখনও বহাল ডিজি কমোডর মিনারুল! গবেষণার নামে বিলাসিতা, প্রকল্পের গাড়িতে সন্তানদের স্কুল যাতায়াত রূপসায় জেলা প্রশাসক, সততা, নিষ্ঠা ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।   পটুয়াখালীতে ধর্ষন প্রতিরোধ মঞ্চের ব্যানারে শিশু রামিসাসহ সারাদেশে সংঘটিত ধর্ষণ, হত্যা ও মব-সন্ত্রাসের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন পটুয়াখালীতে জেলা কৃষকদলের নতুন কমিটির সংবর্ধনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত ঢাকা কাস্টম এজেন্টস এসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিলু আর নেই প্রগতি সংস্থার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: শিবগঞ্জে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ   রূপসার বামনডাঙ্গা বাজারে জিএম কামরুজ্জামান টুকুর গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণে স্হানীয় নেতা-কর্মীদের ঢল।  গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন – প্রধানমন্ত্রী

বোরিতে এডমিরাল (অব.) খুরশীদ আলমের ছত্রচ্ছায়ায় এখনও বহাল ডিজি কমোডর মিনারুল! গবেষণার নামে বিলাসিতা, প্রকল্পের গাড়িতে সন্তানদের স্কুল যাতায়াত

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

এম এইচ মুন্না

দেশের একমাত্র সমুদ্রবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বোরি) যে প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়েছিল বঙ্গোপসাগর, সামুদ্রিক সম্পদ, জলবায়ু ও গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চাকে আন্তর্জাতিক মানে এগিয়ে নেওয়ার। বাইরে গবেষণার ঝকঝকে সাইনবোর্ড, ভেতরে নীরব আতঙ্ক, ক্ষমতার বলয়, টেন্ডার সিন্ডিকেট, কোটি কোটি টাকার আর্থিক কারসাজি আর রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যক্তিগত ভোগবিলাস দৈনিক গণতদন্তের সাত মাসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক রুদ্ধশ্বাস বাস্তবতা।

অনুসন্ধানে পাওয়া নথি, বিল-ভাউচার, জ্বালানি হিসাব, টেন্ডার ডকুমেন্ট, প্রকল্প ফাইল, গোপন প্রশাসনিক আদেশ, ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য যেন এক ভয়াবহ প্রশাসনিক উপাখ্যানের দরজা খুলে দিয়েছে।

জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমোডর মো. মিনারুল হককে বোরির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া, ক্ষোভ ও অস্বস্তি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ জানান, সমুদ্রবিজ্ঞান ও গবেষণাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানে দক্ষ গবেষক বা বেসামরিক প্রশাসনিক কর্মকর্তার পরিবর্তে সামরিক পটভূমির একজন কর্মকর্তাকে বসানো ছিল “পরিকল্পিত প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ।”বোরির প্রবিধানমালায় স্পস্টভাবে উল্লেখ আছে সরকার প্রতিস্ঠান হতে অথবা একজন সিভিল প্রশাষন হতে প্রেষনে একজন অতিরিক্ত সচিব মহাপরিচালক নিযুক্ত হবেন এবং একজন যুগ্ম সচিব এর পরিচালক হিসাবে নিয়ুক্ত হবেন। কোথাও সামরিক প্রশাষনের কথা উল্লেখ নেই।কিন্তু অন্তবর্তী সরকারের সময় সুযোগের সৎ ব্যবহার করে রিয়ার অ্যাডমিরাল (অবঃ) খুরশেদ আলম এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান কে সামরিক করন প্রক্রিয়া শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং তার ফল শ্রুতিতে ২০২৩-২০২৭ সালের জন্য বোরির বোর্ড মেম্বারের একজন গুরুত্বপুর্ন সদস্য হিসাবে পুনঃ নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন যা অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সাবেক সচিব এডমিরাল (অব.) খুরশীদ আলমের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও তদবিরেই এই নিয়োগ বাস্তবায়ন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী আমলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রভাবশালী একটি বলয় এখনও নেপথ্যে থেকে বোরির নীতিনির্ধারণ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছে। এমনকি পরিচালনা বোর্ডেও সেই বলয়ের ছায়া এখনও বহাল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কমোডর মিনারুল হকের নেতৃত্বে বোরিতে গড়ে উঠেছে এক ধরনের “নিয়ন্ত্রিত আতঙ্ক সংস্কৃতি।” প্রশাসনিক চাপ, ব্যক্তিগত আক্রোশ, হুমকি, বদলির ভয়, বিভাগীয় মামলা, শোকজ নোটিশ এবং মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এমন এক ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে কেউ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতেও সাহস পান না।

একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “ডিজির রুম এখন মিনি টর্চার সেল।” অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কক্ষে ডেকে নিয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, চাকরিচ্যুতির হুমকি, অপমান এমনকি শারীরিকভাবে হেনস্তা পর্যন্ত করা হতো। বায়োলজিক্যাল বিভাগের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট অনামিকা এবং কর্মকর্তা মাহফিজুলসহ একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভাগীয় মামলা ও প্রশাসনিক চাপে কোণঠাসা করার অভিযোগও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, বোরির চলমান দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো অনুমোদিত প্রকল্প পরিচালক (PD) কিংবা সহকারী প্রকল্প পরিচালক (APD) নেই। পুরো প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে “অতিরিক্ত দায়িত্বে” থাকা কয়েকজন কর্মকর্তার মাধ্যমে। অথচ সেই প্রকল্পেই মাসে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ভাড়া নেওয়া হয়েছে দুটি গাড়ি। যেখানে প্রকল্পে গাড়ি ব্যবহারের মতো পর্যাপ্ত প্রশাসনিক কাঠামোই নেই, সেখানে কোটি কোটি টাকার গাড়ি ভাড়া কেন? বছরে শুধু গাড়ি ভাড়াতেই ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৫ লাখ টাকার বেশি। একটি সূত্র জানায়, এই অর্থ দিয়ে তো স্থায়ী সরকারি গাড়ি কেনা সম্ভব ছিল।”

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের নামে ভাড়া নেওয়া একটি বিলাসবহুল গাড়ি দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে ঢাকায় মহাপরিচালকের পারিবারিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাজধানীর শাহীনবাগ নেভি কোয়ার্টার সংলগ্ন গ্যারেজে নিয়মিত রাখা হয় ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৬-৩০৪১ নম্বরের গাড়িটি। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ড্রাইভার রাসেল মাহমুদ গাড়িটি নিয়ে বের হন এবং শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মহাপরিচালকের সন্তানদের পৌঁছে দেন। দুপুরে আবার একই গাড়িতে সন্তানদের বাসায় ফিরিয়ে আনা হয়।

দৈনিক গণতদন্তের হাতে থাকা ভিডিও ফুটেজ, গাড়ির গতিবিধির তথ্য এবং একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে এসব তথ্যের সত্যতা মিলেছে। এমনকি নেভির একাধিক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, “গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই ডিজি স্যারের পারিবারিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।” ড্রাইভার রাসেল মাহমুদও স্বীকার করেছেন, তিনি “স্যারের পারিবারিক কাজেই গাড়ি চালান।” অথচ সরকারি নথিতে গাড়িটি সমুদ্র গবেষণা প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দেখানো হয়েছে।

এছাড়াও মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত গাড়িতে পদ্মা পাম্প থেকে তেল নেওয়া হলেও সেই ব্যয় ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বোরির নামে সমন্বয় করা হয়েছে। যার একাধিক রশিদ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বোরির অফিস কার্যক্রম কক্সবাজারে পরিচালিত হলেও ঢাকায় বোরির নামে জ্বালানি বিল উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশ্ন উঠেছে, “কক্সবাজারের প্রকল্পের নামে ঢাকায় তেলের বিল কেন?”

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি গাড়িতে নিয়মিত চট্টগ্রাম-ঢাকা যাতায়াত করেও দাপ্তরিক সফরের নামে অতিরিক্ত টিএ-ডিএ বিল উত্তোলন করা হয়েছে। একজন কর্মকর্তা বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকার বেশি টিএ-ডিএ বিল নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যার বড় একটি অংশ “অবৈধ ও অযৌক্তিক” বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এমনকি সামান্য বৈঠক কিংবা রুটিন প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রেও অন্য কর্মকর্তাদের না পাঠিয়ে নিজেরাই সফর দেখিয়ে ভাতা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।

ড্রাইভার নিয়োগেও বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, সুমন নামের এক চালক প্রায় ১৮ মাস সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করলেও ওই সময় একদিনও বোরিতে উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।এমনকি বোরির ডিজিটাল ফিঙ্গার প্রিন্ট তার কোন হাজিরার রেকর্ড অনুসন্ধানে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, তিনি ঢাকায় অবস্থান করে মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়েছেন। অথচ সরকারি রেকর্ডে তিনি বোরির গাড়িচালক হিসেবেই বেতন উত্তোলন করেছেন।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ই-জিপি (e-GP), এলটিএম (LTM), আরএফকিউ (RFQ) সব ধরনের কাজ কার্যত নিয়ন্ত্রণ করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী।

“সৌরজ ট্রেডার্স”, “সাহারা ট্রেডার্স”, “সেরহিন্দ ট্রেডার্স”, “এডিসন”, “এলেক্স ডিজাইন”, “কক্স হেভেন”, “মারিয়াম কর্পোরেশন” একই কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম ঘুরেফিরে এসেছে অধিকাংশ নথিপত্রে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটির কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিতভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার কাজ দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, “সৌরজ ট্রেডার্স” সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রউফ তালুকদারের শ্যালকের প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, ই-জিপির ৬০ শতাংশের বেশি কাজ একাই করেছে এই প্রতিষ্ঠান।

আরও অভিযোগ রয়েছে, “এলেক্স ডিজাইন” নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও রউফের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং গত দুই বছরে কয়েক কোটি টাকার কাজ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, টেন্ডারের অধিকাংশ মালামাল সরাসরি কোম্পানির মাধ্যমে সরবরাহ না হয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কেনা হতো। নগদ লেনদেন, আংশিক মালামাল সরবরাহ এবং কিছু ক্ষেত্রে মালামাল সরবরাহ না করেই বিল সমন্বয়ের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডারের মালামাল ক্রয়ের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন ডিজির ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি। কোম্পানিগুলো বরিতে না এসে ঢাকায় পণ্য কিনে কুরিয়ারের মাধ্যমে কক্সবাজারে পাঠাতো এবং নগদ টাকার ভাগবাটোয়ারা হতো ভিন্ন চ্যানেলে।

একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ তালুকদার এবং সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার জাকারিয়াই কার্যত BORI ও প্রকল্পের অধিকাংশ প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিধিমালার সীমা অতিক্রম করে বছরের পর বছর “অতিরিক্ত দায়িত্বে” থেকে তারা প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করছেন। ডিপিপি অনুযায়ী APD হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার শর্ত থাকলেও মেরিন ব্যাকগ্রাউন্ডের কর্মকর্তা দিয়ে প্রকল্প পরিচালনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মাঝখানে একজন ক্যাডার কর্মকর্তা APD হিসেবে এলেও তাকে কোনো কার্যকর দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি বিরক্ত হয়ে বদলির আবেদন করে চলে যান।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, প্রকল্পের অনুমোদিত অর্গানোগ্রামে ৪৭ জন জনবল নিয়োগের কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ৪-৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নতুন জনবল এলে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়বে, এই আশঙ্কাতেই নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছে।

আউটসোর্সিং নিয়োগেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই “ঘনিষ্ঠ বলয়ের লোক” বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি জাকারিয়ার স্ত্রী সাইন্টিফিক অফিসার কে প্রকল্পের ব্যবহৃত ইমেইল পরিচালনা সহ অন্যান্য গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর আর্থিক নিয়ন্ত্রণের তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, R&D প্রকল্পের ১০-২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করে ডিজির কক্ষে রাখা হতো। সেখানে থাকা একটি ভল্টে টাকা সংরক্ষণ করে পরে বিজ্ঞানীদের “ভেঙে ভেঙে” অর্থ দেওয়া হতো।

মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ব্যক্তিগত গবেষণা প্রকল্পের অর্থেও অননুমোদিত হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের দাবি, “মাঠে কাজ করি আমরা, কিন্তু টাকার নিয়ন্ত্রণ থাকে অন্যদের হাতে।”

ক্লাব ভবন ও জিমনেশিয়ামকেও অননুমোদিতভাবে আবাসিক ব্যবহারে রূপান্তরের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা রেস্ট হাউজও বোরির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিথি ও আত্মীয়স্বজনদের জন্য উন্মুক্ত সকল ডিজির আমল থেকে চালু থাকলেও বর্তমানে সেখানে শুধু ডিজির “বিশেষ অতিথি ও আত্মীয়স্বজনদের” থাকার সুযোগ দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শুধু চলতি বছরেই কোর বিল্ডিংয়ের টেন্ডার প্রায় ৫০ কোটি টাকার। অন্যান্য প্রকল্প, সরঞ্জাম ও সরবরাহ ব্যয় মিলিয়ে ১০০ কোটিরও বেশি টাকার কার্যক্রম এখন প্রশ্নের মুখে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

দৈনিক গণতদন্তের হাতে থাকা নথিপত্র, বিল-ভাউচার, টেন্ডার রেকর্ড, ভিডিও ফুটেজ, জ্বালানি হিসাব, আর্থিক ডকুমেন্ট এবং একাধিক প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বোরির মহাপরিচালক কমোডর মো. মিনারুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এখানেই শেষ নয়…. চলবে….

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট