সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রূপসা প্রেসক্লাবে চায়ের আড্ডায় চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ শফিকুল ইসলাম,গুরুত্ব পেল সুপেয় পানি ও জলাবদ্ধতা নিরসন ।  জাইমা রহমানের জন্মদিনে শিবগঞ্জে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, সাইকেল পেলেন ৫৪৮ ছাত্রী ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধের অনুরোধ রাজউকের। মিরপুরে নকশা ছাড়াই ৪ তলা ভবন নির্মাণ, ৭ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত নোটিশ জারি কয়রায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ‍্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ  মানিকগঞ্জে২৫ বছরের সংসার ফেলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলের সাথে মুসলিম পরিবারের এক নারী চলে গেছে      জাইমা রহমানের জন্মদিনে বগুড়ায় দুই হাজার অসহায়কে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা আমরাও চাই হাসিনা দেশে ফিরুক, মানুষ তাঁর বিচার দেখতে চায়” : মীর শাহে আলম টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের কমিটি গঠিত  শ্রীপুরে বিজয়া দশমী উপলক্ষে সম্প্রীতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে পূজা মন্ডপে একজনকে পিটিয়ে গুরুতর জকম। 

গণপূর্তে বহুরূপী মহাবাজিতে দপ্তর চালাচ্ছেন প্রধান প্রকৌশলী 

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২৯ বার পড়া হয়েছে

 

এম এইচ মুন্না:

ভুয়ো পিএইচডি সনদ আর জাল অফার লেটারের মারপ্যাঁচে বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা প্রেষণ বাগিয়ে নেওয়ার মহাজালিয়াতি হাতেনাতে প্রমাণিত হলেও, গণপূর্ত অধিদপ্তরের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর ক্ষমতার দাপট রুখে দেয়, এমন সাধ্য কার! ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ চাকুরিজীবনে সরকারি প্রেষণ ও ছুটির বাহানায় প্রায় ১১ বছর বিদেশে সময় পার করা এই বহুরূপী প্রকৌশলী জাল কাগজপত্র ও অসদাচরণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বিভাগীয় তদন্তে স্বয়ং স্বীকার করেও অলৌকিক ছাড় পেয়ে যান।

 

তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে ‘ফুফু’ বানিয়ে তদবিরের সুবাদে ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট তৎকালীন সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকারের হাত দিয়ে গুরুদণ্ডের বদলে বাগিয়ে নেন মাত্র এক বছরের ইনক্রিমেন্ট স্থগিতের নামমাত্র লঘুদণ্ড! এরপর চক্রান্তের চাকা ঘোরে আরও দ্রুত গতিতে, সেই সাজেদা চৌধুরীর রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের জোরেই প্রথা ভেঙে পদোন্নতি পেয়ে তিনি বনে যান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, আর তারআমি মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে নিয়ম-কানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাতারাতি দখল করে নেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদের রাজকীয় আসন!

 

রাষ্ট্রীয় পটপরিবর্তনের মহানাটকে নিজের গায়ের রং বদলাতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি এই সুচতুর প্রকৌশলী। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত চালচিত্রে নিমেষেই তিনি হয়ে যান জামায়াত ঘনিষ্ঠ! নিজের গ্রাম ফরিদপুরের নগরকান্দার তালমার সূত্র ধরে পার্শ্ববর্তী ফুলসুতি গ্রামের জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের শ্বশুরালয়ের সাথে আত্মীয়তার নতুন জাল বোনেন। ডা. তাহেরের স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীকে (সুইটি) বানিয়ে ফেলেন নতুন ‘ফুফু’! আর এই নব্য সম্পর্কের সুবাদেই তৎকালীন জামায়াতপন্থী সচিব মো. নজরুল ইসলাম ও ডা. তাহেরের প্রভাবে ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর সরাসরি পাঁচ-পাঁচজন অতি যোগ্য জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে ডিঙ্গিয়ে রাতারাতি হাতিয়ে নেন গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর কাঙ্ক্ষিত পদ! শুধু এখানেই শেষ নয়; রাজনীতির হাওয়া বদলালেই নতুন সিন্ডিকেটে নিজের অবস্থান পাকা করতে নিজেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের নিকটাত্মীয় হিসেবে জাহির করতেও তিনি ছাড়েননি বিন্দুমাত্র!

 

জানা যায়, সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (SSB) তালিকা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার শীর্ষে থাকা অতি যোগ্য প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের ও উৎপল কুমার দে-সহ মোট ৪৭ জন প্রকৌশলীকে চিরতরে সরাতে রামপুরা থানার একটি সাজানো হত্যা মামলায় তড়িঘড়ি নাম ঢোকানো হয়। জ্যেষ্ঠতার তিন নম্বরে থাকা খালেকুজ্জামান সেই সাজানো মামলার মিথ্যা নথিপত্র এসএসবি কমিটিতে পেশ করে জ্যেষ্ঠদের পথ রুদ্ধ করে নিজের এক নম্বর অবস্থান পাকা করে নেন!

 

শীর্ষ চেয়ারে বসে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারকে হটিয়ে কায়েম করেছেন কোটি কোটি টাকার বেপরোয়া বদলি ও দরপত্র বাণিজ্যের হরিলুট । পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের প্রলোভনে ৬৫ জন প্রকৌশলীর কাছ থেকে ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এখন দাপ্তরিক অন্দরে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। গত ৩ মার্চ একদিনেই অর্ধশতাধিক প্রকৌশলীকে গণবদলি করে মন্ত্রণালয়ের তোপের মুখে তা বাতিলের নাটক করলেও, পর্দার আড়ালে চলতেই থাকে মোটা অঙ্কের গোপন লেনদেন! এমনকি দুর্নীতিতে বরখাস্ত হওয়া সাবেক গণপূর্তমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে ব্যাকডেট জালিয়াতি করে পুরনো তারিখে জাল আদেশে পদে ফেরানোর দুঃসাহসও দেখান তিনি! একইসাথে পিপিআর-২০২৫ (PPR-2025) এর ক্রটির বাহানা তুলে নিজ পকেটে মোটা অঙ্কের কমিশন না পৌঁছানো পর্যন্ত শেরেবাংলা নগরসহ বিভিন্ন বিভাগের শত শত কোটি টাকার মেগা দরপত্র আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে।

 

দৈনিক গণতদন্তের হাতে আসা গোপন নথিপত্র এবং ক্ষুব্ধ প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের সরাসরি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া প্রমাণাদি গণপূর্তের অন্দরে তৈরি করেছে হৈ-হুল্লোড়। সাজেদা চৌধুরীর ছেলে সাজেদ আকবর প্রকাশ্যে মুখ খুলে জানিয়েছেন যে ক্ষমতার লোভে এমন অনেক ভুয়ো সম্পর্কের জন্ম হলেও খালেকুজ্জামানকে তারা চেনেনই না!

তবে এবিষয়ে মন্তব্য জানতে মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর কার্যালয়ে সশরীরে গিয়ে কিংবা মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তিনি রহস্যময় নীরবতার আড়ালে নিজেকে রেখেছেন সম্পূর্ণরূপে আত্মগোপন করে!

 

এখানেই শেষ নয়… চলবে!!

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews