
বিশেষ প্রতিনিধিঃ খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ১ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের সংস্কারকাজে বরাদ্দ করা ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সাবেক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আবু সালেহ পাটওয়ারী। তাঁর দাবি, দায়িত্ব পালনকালে বরাদ্দের অর্থে অফিসের প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন আসবাবপত্রও পরবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট শেখ সহিউদ্দিন হোসেন ১ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে অফিস সংস্কারের জন্য দুটি টিআর প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ করা ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ ঘটনায় ভুয়া ভাউচার ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে কেসিসি কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর কেসিসি দুই সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান ছিলেন কেসিসির একজন ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাহী প্রকৌশলী । কমিটি ২৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।তবে অভিযোগের বিপরীতে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যেই অফিস সংস্কারের কাজ হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আবু সালেহ পাটওয়ারীর দায়িত্বকালীন সময়ে অফিসকক্ষের ভেতরে ও বাইরে চুনকাম করা হয়। পাশাপাশি ছাদের নিচের মেরামত, প্লাস্টার ও সংস্কারের কাজও সম্পন্ন করা হয়। এসব কাজে তিনজন শ্রমিক নিয়োজিত ছিলেন এবং তাঁরা আনুমানিক ছয় থেকে সাত দিন কাজ করেন বলে ওয়ার্ড কার্যালয়ের কর্মচারীরা তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন।এ ছাড়া নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সাবেক কর্মকর্তার মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে সংস্কারকাজ এবং আসবাবপত্র হস্তান্তরের বিষয়টিও লিখিত বক্তব্যে উঠে এসেছে। ওই বক্তব্য অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন আসবাবপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে কেসিসি প্রশাসকের উপস্থিতিতে ২ টুইটি ব্যাটারি চালি ভ্যান গাড়ি প্রদান এবং আরও ছিল ২টি টেবিল, তিনটি রিভলভিং চেয়ার, একটি সেলফ একটি বৈদ্যতিক আইপিএস,৮ টি দরজা জানালার পর্দা এবং ১০টি প্লাস্টিকের চেয়ার। অর্থাৎ অফিসের সংস্কার ও আসবাবপত্রের বিষয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় কার্যক্রমের তথ্যও রয়েছে।আবু সালেহ পাটওয়ারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দায়িত্ব পালনকালে অফিস সংস্কারের প্রয়োজনীয় কাজ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মালামালও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন প্রকৃত ঘটনা ও দায়িত্বকালীন কাজের বিবরণ যাচাই করলেই অভিযোগের অসারতা স্পষ্ট হবে।
এদিকে, অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, বরং দুটি টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ, বাস্তবায়িত কাজের বিবরণ, শ্রমিক নিয়োগ, কেনাকাটার রসিদ, ভাউচার, স্বাক্ষর এবং মালামাল হস্তান্তরের নথি সমন্বিতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।