
মোঃ হাইউল উদ্দিন খান,গাজীপুর প্রতিনিধি
তৈরী পোশাকখাতে শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ- সহযোগী ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা নাশকতার তীব্র চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। রবিবারও পোশাক শ্রমিকদের ছদ্মবেশে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়িতে দুটি পোশাক কারখানায় হামলা চালিয়ে কর্মরত শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা করে। পরে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এতে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ আশিক সাঈদ জানান, রবিবার বিকাল তিনটার দিকে কোনাবাড়িথানাধীন জরুন এলাকায় মন্ডল গ্রুপের গার্মেন্টস শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় তারা ইসলাম গ্রুপের স্ট্যান্ডাড গার্মেন্টসের শ্রমিকদেরও বের করে আনার চেষ্টা করে। জানতে পেরে পুলিশ গিয়ে টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে গার্মেন্টস দুই ঘন্টা ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে এর প্রভাব অন্য কোনো কারখানায় পড়েনি।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শ্রমিকদের আড়ালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ, সহযোগী ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা নাশকতার চেষ্টা করেছিল।
এদিকে সকালে নিজ নিজ কর্মস্থলে প্রবেশ করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের। এছাড়া মহাসড়কে শ্রমিক আন্দোলন না থাকায় যানচলাচল ও ছিল স্বাভাবিক। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। গাজীপুরের শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকাগুলোর মধ্যে টঙ্গী, বোর্ড বাজার, সাইনবোর্ড, ভোগড়া বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ, মাওনা, জৈনাবাজার এলাকার পোশাক কারখানাগুলো পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক।
এদিকে শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও এসআরবি দায়িত্ব পালন করছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন জানান, শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে চলমান শ্রমিক বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কোথাও কোনো বিশৃংখলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে সবখানে আইনশৃংখলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে আসছিল। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি ও কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগ করা হয়। কয়েক দফায় শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এতে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে অনেক কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। এ ছাড়া আন্দোলন চলাকালে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের সময় শ্রমিকদের মারধরের শিকার হয়ে তৌফিক নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। শ্রমিকদের আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নাশকতা করে দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের সে চেষ্টা ভেস্তে যায়।