
মোঃগোলাম রাব্বী,স্টাফ রিপোর্টার:- পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে শতাধিক পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা ভেঙে ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন ওই এলাকার শতাধিক পরিবার। নারী, শিশু ও বয়স্কসহ স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রশিদ গাজী, জসিম গাজী, সোহাগ গাজী ও শুভ গাজী নামের কয়েকজন ব্যক্তি জমিটি নিজেদের মালিকানাধীন দাবি করে প্রায় ৩০ বছর ধরে শতাধিক পরিবারের ব্যবহৃত চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, জমিটি তাঁদের হওয়ায় এ পথ দিয়ে কাউকে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ভাষ্য, প্রায় ৩০ বছর আগে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে জমির মালিকেরা শতাধিক পরিবারের যাতায়াতের সুবিধার্থে রাস্তাটি ব্যবহারের সুযোগ করে দেন। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এই পথ ব্যবহার করে আসছেন। তবে সম্প্রতি জমিটি অন্য একজনের কাছে বিক্রি করার পর থেকেই চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে রাস্তার ইট তুলে ফেলে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয়রা জানান, এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হলে চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেই নির্দেশনা মানতে রাজি হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে কিছুদিন আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা নুরুল আমীন লিটন গাজী উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করেন এবং চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করে দেন।
তবে সেই মীমাংসার পরও সমস্যার সমাধান হয়নি। শনিবার (৭ নভেম্বর) অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পুনরায় রাস্তার ইট তুলে নিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে আবারও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন শতাধিক পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তা বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত, অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য নেওয়া এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ।এ অবস্থায় দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের পথটি দ্রুত উন্মুক্ত করে দিয়ে স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় যোগাযোগ করা হলে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।