
লুৎফুর রহমান রানা মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি।
আজ ৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্যের লীলাভূমি বধ্যভূমি ৭১ এ প্রর্যটকদের ভিড় লক্ষ করা যায়, প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রর্যটকরা শ্রীমঙ্গলে আসেন, এবং দর্শনীয় এলাকার মধ্যে বধ্যভূমি ৭১ এবং লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এ যান,
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা। সবুজের নিসর্গে ভরা ৩৯টি চা বাগান ছাড়াও এখানে রয়েছে অসংখ্য হাইল—হাওর, বিল আর ছড়া।
আর সেখানে রয়েছে দেশি- বিদেশি পাখির অভয়ারণ্য।
এখানকার অন্যতম আকর্ষণ চা বাগান ছাড়াও রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, খাসিয়াপুঞ্জি ও খাসিয়াদের পানের বরজ, মণিপুরীপাড়া, মণিপুরী তাঁতশিল্প, ডিনস্টন সিমেট্রি, চা জাদুঘর, বিটিআরআই, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, অসংখ্য রাবার বাগান, লেবু ও আনারস বাগানসহ অর্ধশত দর্শনীয় পর্যটন স্পট।
তবে এতোসব কিছুর মধ্যেও রয়েছে শহরের ভানুগাছ সড়কে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সেক্টর হেড কোয়ার্টার সংলগ্ন ভুরভুরিয়া ছড়ার পাশে অবস্থিত বধ্যভূমি’৭১ পার্কটি। এটি এখন শ্রীমঙ্গল শহরের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র।
২০১০ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় নির্মিত ‘স্মৃতিস্তম্ভ’কে ঘিরে তৈরি এ পার্কটি দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ শহরের বিনোদন পিপাসুদের পদভারে মুখরিত।
প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা এখানে আসলেও ছুটির দিনসহ বছরের বিশেষ দিনগুলোতে পর্যটকের ঢল নামে।
যাদের সহযোগিতায় বধ্যভূমি’৭১ স্মৃতিস্তম্ভসহ পার্কটি তৈরি হয়েছে বিভিন্ন স্থানে তাদের নামফলক দেখা গেলেও যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের আলাদা কোনো নামফলক বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভে স্থান পায়নি।
ছড়াটির কোণা ঘেঁষে নির্মিত দেয়ালে আলাদা আলাদাভাবে ১১ জন শহীদের নাম নাম লেখা থাকলেও তাদের পরিচয় তুলে ধরা হয়নি।
শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পার্কটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানটি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের বধ্যভূমি হলেও এর পবিত্রতা রক্ষায় কোনো ব্যবস্থা নেই। মূল বেদীসহ পার্শবর্তী একটি ভাস্কর্যে দর্শনার্থীরা জুতাসহ উঠে ছবি তুলছেন। কিন্তু দেখার কেউ নেই।
ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল বেড়াতে এসে বধ্যভূমি’৭১ দেখতে আসা ইউনিভার্সিটি ,স্কুল,কলেজের ছাত্রছাত্রী শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়ে আসেন ভ্রমণে, এরা মনে করেন পরিচয়সহ সব শহীদদের নামফলক বধ্যভূমিতে স্থান পাওয়া উচিত। একইসঙ্গে বধ্যভূমির পবিত্রতা রক্ষা করাও পার্ক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।