
এম এইচ মুন্না
প্রকৌশলী গালিবের বেপরোয়া লুটপাটে এলজিইডি-ই যেন ফোকলা হতে চলেছে। সিনিয়র সহকারী ওই প্রকৌশলী শুধু নিজের দপ্তরের অনিয়ম, দুর্নীতির অপকর্ম করেই ক্ষ্যান্ত থাকেন না, তিনি অন্যান্য বিভাগ ও সেকশনের টেন্ডারবাজিরও নেপথ্য নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছেন। যে কোনো বিভাগের টেন্ডার তৎপরতা শুরু হলেই নড়েচড়ে বসেন প্রকৌশলী গালিব । তার আস্থাভাজন ঠিকাদার সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দিতে চলতে থাকে তার ফন্দিফিকির। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে গোপন পথে টেন্ডার কাজ বাগিয়ে নেয়ার তদবিরবাজিতেই বেশি আগ্রহ তার।
তবে এ কৌশল সফল না হলে গালিব আঙ্গুল বাঁকা করতেও বিন্দুমাত্র সময় ক্ষেপণ করেন না। টেন্ডার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের নাম, পরিচয়, সাক্ষর ব্যবহার করে একগাদা মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেন দপ্তরে দপ্তরে। সেসব স্থানে টাকা ছিটিয়ে তদন্তের নামে হয়রানিও চালাতে থাকেন। অবস্থা বেগতিক দেখে গালিবকে সঙ্গে নিয়েই টেন্ডার কাজ সমঝোতা করে তবেই রেহাই মেলে। এমন অপরাধ অপকৌশলে ওই ধূর্ত প্রকৌশলী লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিতর্কিত এই প্রকৌশলীর পুরো নাম হচ্ছে গালিব ইবনে সিদ্দিক । তিনি এলজিইডির রাজশাহী বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরন ও শক্তিশালীকরন প্রকল্পে কর্মরত। সুত্র বলছে, ঠিকাদারদের যোগসাজশে এরইমধ্যে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন প্রকৌশলী গালিব। অসাধু এক দাপুটে কর্মকর্তার সকল অপকর্ম, গোপন অর্থের লেনদেন, টাকা পাচারসহ যাবতীয় অনৈতিক কাজের ‘ম্যানেজম্যান’ হিসেবেও তার সমধিক পরিচিতি রয়েছে। নিজেই নিয়ন্ত্রণ করেন একাধিক ঠিকাদার সিন্ডিকেট।
এরইমধ্যে লুটেরা এই কর্মকর্তা গালিব ইবনে সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অভিযোগ তুলছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র, তারা বলছেন, প্রকৌশলী গালিব লুটপাট, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিশাল সহায় সম্পদ অর্জন করেছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, গালিব ইবনে সিদ্দিক ময়মনসিংহ জেলা শহরে কোটি টাকা খরচ করে ফুড কার্নিভাল, বেবিজ ওয়ার্ল্ড ও ক্যানভাস লঞ্জ নামক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন আর তা দেখভাল করছে তারই আপন ভাই। এছাড়াও নামে-বেনামে অঢেল সম্পত্তি অর্জন করেছেন খোদ ময়মনসিংহ- তেই।
এছাড়াও গালিব স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এমন অভিযোগে তোলেন একটি সূত্র। ঠিকাদারদের সাথে যোগসাজশে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগসহ খোদ দপ্তরের অসাধু এক কর্মকর্তার সকল অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালনা ও স্যাটেলম্যান হিসেবে পরিচিত তিনি। গালিব ইবনে সিদ্দিকের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডিতে ঠিকাদারী টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে। তিনি প্রতিটি ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত ৫% হারে এককভাবে অবৈধ অর্থ আদায় করে আসছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার যোগাযোগ করা হলেও প্রকৌশলী গালিব ইবনে সিদ্দিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ যেনো শকুনের চোখে এলজিইডির ভবিষ্যৎ….
চলবে…..