
মো.হাইউল উদ্দিন খান,গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক গোপন জগতের চিত্র। মাজার বস্তির ভেতরে তৈরি করা হয়েছিল সুরঙ্গপথসংবলিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) গোপন কক্ষ,যেখানে নির্ভয়ে বসে চলত মাদক সেবন ও লেনদেন।
অবশেষে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে সেই ‘অভিজাত মাদক আখড়া’ সিলগালা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে ৫০ জন মাদক কারবারি ও সেবনকারীকে।
মঙ্গলবার (৫ মে) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। অভিযানের মূল টার্গেট ছিল দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত মাজার বস্তি এলাকা। সেখানে তালাবদ্ধ একাধিক কক্ষে হানা দিয়ে পুলিশ আবিষ্কার করে সুপরিকল্পিত মাদক আস্তানা,যেখানে আধুনিক সরঞ্জাম, এসি ব্যবস্থা ও গোপন সুরঙ্গপথের মাধ্যমে যাতায়াত এবং নির্বিঘ্নে পালানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এসব কক্ষ উচ্চবিত্ত মাদকসেবীদের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল, যাতে তারা আড়ালে থেকে নির্বিঘ্নে মাদক গ্রহণ করতে পারে। সুরঙ্গপথগুলো ব্যবহার করে অভিযানের সময় দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও ছিল।
অভিযানে আটক ৫০ জনের কাছ থেকে গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, “মাদক নির্মূলে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। এ ধরনের গোপন আস্তানা কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
অন্যদিকে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, তাদের এলাকাতেও চিহ্নিত একাধিক মাদক স্পট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টঙ্গীজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন গোপন মাদক আস্তানা সক্রিয় থাকলেও তা নজর এড়িয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই অভিযানে গোপন নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ায় স্বস্তি ফিরেছে এলাকাজুড়ে।