
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খড়িবাড়ি রোড থেকে ভাঙ্গা মোড় ইউনিয়ন পরিষদগামী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মাঝখানে অবস্থিত একটি কালভার্ট দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিদিন যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খড়িবাড়ি-ভাঙ্গা মোড় সড়কটি ইউনিয়ন পরিষদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান, পিকআপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আগে এখানে একটি ছোট কালভার্ট থাকলেও সময়ের ব্যবধানে সেটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। এরপর থেকে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষা ও বন্যা মৌসুমে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভেঙে যাওয়া কালভার্টের স্থানে একটি বড় বক্স কালভার্ট নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। এতে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষা পাবে।
এদিকে, ভাঙা কালভার্টের কারণে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে এবং বর্ষার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে একাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং ভেঙে যাওয়া কালভার্টের স্থানে একটি বড় বক্স কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আরও বিলম্ব হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এতে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষি ও আবাসিক খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।