
সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৮/১০ বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) রাতে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামে এই সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক সেবন বাধা ও লিচু চুরিতে নিষেধ করায় গত ১৩মে সন্ধায় মারপিটে নিহত হন আজিজুল হক মোল্যা (৬২)। এরপরই মনি মোল্যা ও বিল্লাল মুন্সির সমর্থকদের মাঝে কয়েকদফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হত্যা ও সংঘর্ষ পরবর্তী সময়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। এরই জেরে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মনি মোল্যার সমর্থক রুহুল ফকির (২৭) ও বিল্লাল মুন্সীর সমর্থক আহাদ মুন্সী (২৬) এর মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, ঢাল-সড়কি, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, নারী ও শিশুরা চিৎকার করে দিক-বেদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। সংঘর্ষকারীরা ৮/১০ টি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। সংঘর্ষ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, চরবাংরাইল গ্রামে দুই ব্যক্তির মধ্যে মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।