
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ব্যাপক আলোচিত, কুখ্যাত মাদক ব্যাবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম এখানো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এতে জনমনে প্রশ্ন আসলে তার খুঁটির জোর কোথায়?
জানা গেছে, সম্প্রতি গোদাগাড়ীর একটি কমিউনিটি পুলিশিং সভায় জাহাঙ্গীর আলমের বিতর্কিত উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার সুত্রপাত ঘটেছে। গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত একটি ‘মাদকবিরোধী মতবিনিময় ও কমিউনিটি পুলিশিং সভায়’ মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যদের নিয়ে প্রকাশ্যে হাজির হন হেরোইন মাফিয়া জাহাঙ্গীর আলম। সভায় একজন আইনজীবী তাঁর উপস্থিতির তীব্র প্রতিবাদ জানালে তোলপাড় শুরু হয়।
এদিকে মাদকবিরোধী সভায় মাদক ব্যবসায়ীর উপস্থিতির খবরটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি (তৎকালীন) মোহাম্মদ শাহজাহান তাঁকে যেকোনো মূল্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। এমতাবস্থায় ডিআইজির গ্রেপ্তার নির্দেশ ও পুলিশের অভিযান শুরু হয়।
গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুস সালামের নেতৃত্বে পুলিশ তার মাদার পুরের বাড়িতে সাড়াঁশি অভিযান চালায়, কিন্তু অভিযানের আগেই জাহাঙ্গীর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগীতা করেন তার বাবা সাবেক কাউন্সিলর নওশাদ আলী। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে মাদক কারবারির অভিযোগ।
সুত্র জানায়, জাহাঙ্গীর আলম গোদাগাড়ী থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন পেশাদার মাদক কারবারি। বিভিন্ন জেলায় মাদক ও অস্ত্র বহনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। যার মধ্যে গোদাগাড়ী থানায় ২০০৮, ২০১০ এবং ২০১৪ সালে দায়ের করা ৩টি মাদক মামলা ও একটি অস্ত্র মামলা। ২০১৫ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হওয়া একটি মাদক মামলা।
২০২০ সালে যশোরের কোতোয়ালি থানায় হওয়া একটি মাদক মামলা।এতোগুলো মামলা মাথায় নিয়ে তিনি এখানো বীরদর্পে বুক উঁচিয়ে ঘোরাঘুরি করছে। এটা সাধারণ মানুষের মানতে কস্ট হচ্ছে। তারা জাহাঙ্গীর ও তার সেল্টার দাতাদের আটকের দাবি করেছেন।
পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়
জাহাঙ্গীর আলমের বাবা নওশাদ আলী (ওরফে নওশাদ জামাতি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। নওশাদ আলী গোদাগাড়ী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং বর্তমানে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
রাজনৈতিক পালাবদল
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর ছত্র ছায়ায় থেকে জাহাঙ্গীর দেশজুড়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন।
দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর তিনি প্রকাশ্যে আসেন। বর্তমানে তিনি ও তার বাবা আসন্ন গোদাগাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রচার চালাচ্ছেন। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় ধানের শীষের ভরাডুবির জন্য নেতাকর্মীরা তাদের দু-বাপ-বেটাকে দায়ি করেছেন। এতো বির্তকের পরেও তাদের অতিউৎসাহী ভুমিকা সাধারণ ভোটারগণ মেনে নিতে পারেনি।
স্থানীয়রা বলছে, অবৈধ সম্পদের পাহাড় ও মাদকের কালো টাকা আড়াল করতে জাহাঙ্গীর এলাকায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছেন।
রাজশাহী মাদারপুরে প্রায় দুই বিঘা জমির ওপর প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও মাদক ব্যবসার অবৈধ পরিচয় লুকানোর জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যায়ে বিশাল গরু ও মহিষের খামার গড়ে তুলেছেন। মাদক পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পত্তি খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয়রা তাদের বাপ-বেটাকে আটক ও তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের অনুসন্ধান দাবি করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদুক) জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।