রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
টাঙ্গাইল-জামালপুর সড়কে বাস-বাইক সংঘর্ষে নারী নিহত শিবগঞ্জে বীমা খাতে দক্ষ জনবল গড়তে এজেন্ট প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে রেললাইনের মাঝে গড়ে উঠা  ময়লার স্তুপ অপসারণ,স্বস্তিতে এলাকাবাসী গাজীপুরে অপরাধ দমনে ডিবির তৎপরতা জোরদারে কঠোর নির্দেশ- জিএমপি কমিশনারের   রাজধানীর মিরপুরে ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ  ভবন মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রাজউকের বিরুদ্ধে  লালমনিরহাটে অন্যায় ভূমি অধিগ্রহণের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ রূপসায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠদের সম্মাননা সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই গাজীপুরে মানবাধিকার কমিশনের পরিচিতি, শপথ ও আইডি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠিত  স্বচ্ছতার নজির: খাল খননের অব্যয়িত টাকা ফেরত দিয়ে প্রশংসায় সালথার ইউএনও

রাজধানীর মিরপুরে ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ  ভবন মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রাজউকের বিরুদ্ধে 

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

 

 

 

নার্গিস রুবি: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর আওতাধীন ঢাকার মিরপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনে ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এবং বাংলাদেশ জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালা ২০০৬/২০২০ এর গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ভবনে নকশা বিচ্যুতি, নিয়মবহির্ভূত নির্মাণ কাজ, সেফটি নেটের অভাব এবং প্রতিবেশী ভবনের সাথে নির্ধারিত দূরত্ব না রেখে নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট অথরাইজড অফিসার ও ইমারত পরিদর্শক কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

ঢাকা প্রজেক্ট হাউজিং কোম্পানী লিমিটেড এর বাড়ি নং ৪৬-৪৮, রোড নং ২৫, ব্লক ডি, সেকশন ১২, মিরপুর ঢাকা। এবং রোড নং- ৬, ব্লক – ডি সেকশন -১২ তে অবস্থিত প্রকল্পের নাম – হিমছায়া। এ ভবনের ৭ তলা ছাদ ঢালাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং মেমোরিয়াল সৈয়দ মঞ্জিল নামে পরিচিত ভবনটির বাসা নং ৩৭, রোড ৬, ব্লক ডি, মিরপুর ১২, পল্লবী ঢাকায় অবস্থিত এ ভবনটির ৬ তলা ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ভবনটির ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান মেমোরিয়াল বিল্ডার্স লিমিটেড।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উভয় ভবনের চতুর্দিকে অতিমাত্রায় নকশা বিচ্যুতি বা ডেভিয়েশন করা হয়েছে। নকশায় যে পরিমাণ জায়গা ছাড় দেওয়ার কথা ছিল, তা ঠিকমতো করা হয়নি। অন্য বাড়ির সাথে লাগিয়ে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যা আইন ও বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া নির্মাণ কাজে সেফটি নেটের ব্যবস্থা না থাকায় নির্মাণ শ্রমিক ও পথচারীরা চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। যে কোনো সময় গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এলাকাবাসী জানান, তারা বহুদিন ধরে এসব অনিয়মের বিষয়ে ইমারত পরিদর্শক আখতারুজ্জামান ফয়েজকে জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। অভিযোগ রয়েছে, ইমারত পরিদর্শক ভবন মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানির সাথে যোগসাজশ করে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের সুযোগ করে দিচ্ছেন। অপরদিকে অথরাইজড অফিসার এফ আর আশিক আহমেদ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর ধারণা, ইমারত পরিদর্শক অনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার কারণে তার দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন।

 

এ প্রসঙ্গে জানতে চেষ্টা করা হলেও ভবন মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানির পক্ষ থেকে কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের আওতাভুক্ত এলাকায় কোনো ব্যক্তি পূর্ব অনুমোদন ছাড়া কোনো ভবন নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, সংযোজন বা পরিবর্তন করতে পারবেন না। অনুমোদনের শর্তাবলী লঙ্ঘন করলে তা বাতিল করা যাবে। একই আইনের ৩বি ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ভবন অনুমোদন ছাড়া বা অনুমোদনের শর্ত লঙ্ঘন করে নির্মাণ করা হয়, তবে অথরাইজড অফিসার মালিক, দখলদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারেন। পরবর্তীতে ভবন বা এর কোনো অংশ ভেঙে ফেলার, পুকুর ভরাট করার বা নির্মাণ কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারেন। যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্দেশনা মানেন, তবে তাকে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং নির্ধারিত ফির দশগুণ ফি প্রদান করতে হবে। যদি তিনি তা না মানেন, তবে অথরাইজড অফিসার ভবন বা এর অংশ ভেঙে ফেলতে পারেন এবং খরচ মালিকের কাছ থেকে আদায় করতে পারেন।

 

আইনের ১২ ধারায় ভবন মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। যে কোনো ব্যক্তি যদি ৩ ধারা লঙ্ঘন করেন, অথরাইজড অফিসার বা কমিটির নির্দেশনা অমান্য করেন, বাংলাদেশ জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালার বিধান লঙ্ঘন করে নকশা প্রণয়ন, অনুমোদন বা বাস্তবায়ন করেন, অথবা বিধিমালা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করেন, তবে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অন্যূন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। আদালত চাইলে অপরাধ সংশ্লিষ্ট ভবন বা এর অংশ ভেঙে ফেলার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করে দিতে পারেন। যদি দণ্ডিত ব্যক্তি নির্ধারিত তারিখের মধ্যে তা না করেন, তবে আদালত ভবন ভেঙে ফেলতে পারেন এবং খরচ দণ্ডিত ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করতে পারেন।

 

বাংলাদেশ জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালা ২০২০ এর ২.৪.৩ ধারায় বলা হয়েছে, বিল্ডিং অফিসিয়াল বা তার নিয়োগকৃত কর্মচারী কোনোভাবেই পরিকল্পনা, নকশা, নির্মাণ, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবর্তন বা সংশোধন কাজে জড়িত হতে পারবেন না। তিনি কোনো উপকরণ বা সরঞ্জাম সরবরাহেও জড়িত থাকতে পারবেন না। যদি কোনো বিল্ডিং অফিসিয়াল বা কর্মচারী এসব বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করেন, তবে তিনি সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তির জন্য দায়ী হবেন। একই বিধিমালার ৩.৯.৩ ধারায় বলা হয়েছে, প্রকৌশলী, স্থপতি বা পরিকল্পনাবিদ যদি তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ত্রুটি বা অবহেলা করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পেশাগত সংস্থার মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার মধ্যে স্বীকৃতি বা নিবন্ধন বাতিলও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেছেন, একটি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কয়েকটি পক্ষ কাজ করে। মালিক পক্ষ, প্রকৌশলী, ঠিকাদার এবং রাজউক। মালিক নিজে যেমন আইন ব্যত্যায় করে অন্যায় করেছেন, সেটি না থামিয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট অথরাইজড অফিসার ও ইমারত পরিদর্শকও অন্যায় করেছেন। কিন্তু আমরা দেখছি শাস্তি কেবল ভবন মালিকই পান। তাদের জরিমানা করা হয়, ভবন ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু যে অথরাইজড অফিসার নিজের দায়িত্ব অবহেলা করেন, তাকে কিন্তু শাস্তি দেওয়া হয় না। অথরাইজড অফিসার বেতনই নেন ভবন যেন সঠিকভাবে হয় সেটা দেখার জন্য। তাহলে তার জোনে যে ভবনগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে উঠেছে সেগুলোর দায় তাকে নিতে হবে না?

 

ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশের একজন দায়ত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘুষ দুর্নীতি ছাড়া রাজউকে প্ল্যান পাস হয় না। রাজউকের দুর্নীতিগ্রস্ত অথরাইজড অফিসার ও ইমারত পরিদর্শকদের তালিকা প্রকাশ করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কোনো ভবন অথরাইজড অফিসারের সই ছাড়া, ইমারত পরিদর্শকের সই ছাড়া নির্মাণ হয় না। তাহলে যে ভবন হেলে পড়ল বা আগুন লাগল, সেটায় যে কর্মকর্তার সই আছে তাকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনলেই অন্যরা সোজা হয়ে যায়। কিন্তু রাজউক সেটা করে না। তারা শুধু ভবন মালিককে জরিমানা করে। ভবন ভেঙে দেয়। কিন্তু নিজেদের দায়িত্বে অবহেলার কোনো শাস্তি তারা দেয় না।

 

স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, মিরপুরের এসব ভবনে অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে অথরাইজড অফিসার এফ আর আশিক আহমেদ ও ইমারত পরিদর্শক আখতারুজ্জামান ফয়েজের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সাথে ভবন মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এর ১২ ধারা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং তখন শুধু ভবন মালিককে দায়ী করে দায় এড়ানো যাবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলার দায়ও তাদেরকে নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews