
মো.হাইউল উদ্দিন খান,গাজীপুর প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২৮ নং ওয়ার্ড সাহাপাড়া এলাকার ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল দুই রেললাইনের মাঝখানে গড়ে ওঠা ময়লার ভাগাড়ের কারণে চরম দুর্ভোগ ও দুর্গন্ধের শিকার হচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। অবশেষে সেই জনভোগান্তির অবসান ঘটাতে ময়লার স্তূপ অপসারণে সরাসরি মাঠে নেমেছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সারাদেশের ন্যায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে দৃষ্টিনন্দন করতে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন করতে ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল দুই রেললাইনের মাঝখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন।
পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার প্রত্যয়ে রবিবার (১২ জুলাই) সকালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সোহেল রানার নির্দেশনায় তাৎক্ষনিক বর্জ্য পরিদর্শক মোঃ মাহমুদুল হাসান, বর্জ্য পরিদর্শক মোঃ ইমরান খান ও বর্জ্য সুপারভাইজার মেহেদী হাসান মৃদুল ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল রেললাইনের পাশ দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষে চলাচল। এসব আবর্জনা থেকে বের হচ্ছে দুর্গন্ধ। বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে কয়েক পুরো এলাকাজুড়ে। এতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। তারা আরো জানান, ময়লা-আবর্জনার কারণে আশপাশের এলাকায় বেড়েছে মাছির উপদ্রব। ঢাকা-টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ ট্রেন চলাচলে যাত্রীদেরও অসুবিধায় ফেলছে এই দুর্গন্ধ । আশপাশের দোকানপাটে মাছি বসে রোগ-জীবাণু ছড়াচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল করতে হয় নাক-মুখে রুমাল চেপে।
সংশ্লিষ্ট বর্জ্য পরিদর্শক মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়তে প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার স্যার ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সোহেল রানা স্যারের নির্দেশনায় দুই রেললাইনের মাঝের পুরো জায়গাটি পরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ময়লা-আর্বজনা অপসারণের পর জায়গাটি শুধু দুর্গন্ধমুক্তই হবে না, বরং একটি পরিচ্ছন্ন দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে পরিণত হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিবেশ দূষণ কমে এলাকাবাসী ও জনসাধারণের চলাচল আরও আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত হবে। একই সাথে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ চলমান কাজ অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ রক্ষায় পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও ময়লা না ফেলতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।