সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রূপসা প্রেসক্লাবে চায়ের আড্ডায় চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ শফিকুল ইসলাম,গুরুত্ব পেল সুপেয় পানি ও জলাবদ্ধতা নিরসন ।  জাইমা রহমানের জন্মদিনে শিবগঞ্জে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, সাইকেল পেলেন ৫৪৮ ছাত্রী ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধের অনুরোধ রাজউকের। মিরপুরে নকশা ছাড়াই ৪ তলা ভবন নির্মাণ, ৭ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত নোটিশ জারি কয়রায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ‍্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ  মানিকগঞ্জে২৫ বছরের সংসার ফেলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলের সাথে মুসলিম পরিবারের এক নারী চলে গেছে      জাইমা রহমানের জন্মদিনে বগুড়ায় দুই হাজার অসহায়কে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা আমরাও চাই হাসিনা দেশে ফিরুক, মানুষ তাঁর বিচার দেখতে চায়” : মীর শাহে আলম টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের কমিটি গঠিত  শ্রীপুরে বিজয়া দশমী উপলক্ষে সম্প্রীতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে পূজা মন্ডপে একজনকে পিটিয়ে গুরুতর জকম। 

চাটমোহরে পাটের আঁশ সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪২ বার পড়া হয়েছে

 

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা
পাবনার চাটমোহরে সোনালি আঁশ পাট ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, পাটকাঠি থেকে আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ। তবে পাট জাগ দেওয়ার সময় পানির সংকট এবং কৃষিশ্রমিকের বাড়তি মজুরি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। এর পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে পাট শুকানো নিয়েও বিপাকে পড়েছেন কৃষক-কৃষানিরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষক-কৃষানিরা পাটের আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত। কোথাও পুকুর-ডোবা ও জলাশয়ে পাট জাগ দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকানো হচ্ছে। শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক সময়মতো পাট কাটতে ও জাগ দিতে সমস্যায় পড়ছেন।
উপজেলার ডিবিগ্রামের পাটচাষি আজমত আলী বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছি। এখন পর্যন্ত কামলা না পাওয়ায় পাট কাটতে পারিনি। বর্তমানে একজন কৃষিশ্রমিকের মজুরি এক হাজার টাকা। দুই বিঘা জমির পাট কাটতে প্রায় আটজন শ্রমিক লাগবে।’ শ্রমিক না পেলে নিজেই পাট কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন গ্রামের নারীরাও। গৃহিণী নাসিমা বেগম বলেন, ‘পাট ছাড়ানোর পর আমরা পাটখড়ি নিয়ে যাই। প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১১০ আঁটি পাট ছাড়ানো যায়।’
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও পাটের দাম ছিল মণপ্রতি প্রায় ৪ হাজার ৪০০ টাকা। বর্তমানে দাম কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে এক বিঘা জমির পাট কাটতেই প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এরপর পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজেও অতিরিক্ত শ্রম ব্যয় হওয়ায় কৃষকদের কাঙ্ক্ষিত লাভ কমে যাচ্ছে।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৯০০ হেক্টর। সেখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি, ৮ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। বিঘাপ্রতি ফলনও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ বলেন, ‘পাট জাগ দেওয়ার জন্য পানির সংকট কিছুটা ছিল। বর্তমানে সেই সংকট আর নেই। কৃষকরা এখন পাট ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার পাটের ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে দামও ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।’
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, পাটের ন্যায্যমূল্য ধরে রাখা এবং কৃষিশ্রমিকের সংকট নিরসন করা গেলে চলতি মৌসুমে পাট চাষ থেকে আরও ভালো লাভের আশা করছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews