বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রূপসায় যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা।  দীর্ঘদিন সংস্কারহীন শিবগঞ্জের বলরামপুরের একমাত্র রাস্তা, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ফসলী জমিতে অবৈধ ইটভাটা স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ হুমকির মুখে।  জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি ফ্যাসিবাদের চরিত্র :: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য বিমান ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় লোহাগড়ায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আলোচনা সভা ও গাছের চারা বিতরণ পটুয়াখালীতে চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত রাজধানীর দক্ষিণখানের কাওলায় ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণ রাজউক আইনের তোয়াক্কা না করে দুই দফা উচ্ছেদের পরও অবৈধ ১০ তলা ভবনে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট ছাড়াই ভাড়াটিয়া প্রবেশ তানোরে ফ্যামিলি কার্ডের কর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বিক্ষোভ! লালমনিরহাটে ১১ শিক্ষক আর ২০০ শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে এসএসসি পাসের হার ‘শূন্য’

ফসলী জমিতে অবৈধ ইটভাটা স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ হুমকির মুখে। 

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

রাজশাহীর তানোর উপজেলার সীমান্তবর্তী মোহনপুর উপজেলার ঘাষিগ্রাম ইউনিয়নের (ইউপি) বড়াল মাঠে চার ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। উপজেলার সিংহভাগ মানুষ কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত আছে। এখানে মাছ, পান, ও আলুর ব্যাপক সুনাম রয়েছে দেশ-বিদেশেও সুখ্যাতি রয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের ওপর নির্ভর করেই এসব মানুষকে তাদের সংসার চালাতে হয়। এক কথায় বলতে গেলে কৃষিনির্ভর অর্থনৈতিক অঞ্চল এটি। ভালো মাটি ও সুন্দর জলবায়ুর কারণে ফসলের সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়। কিন্ত অবৈধ ইটভাটার কারণে এখানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে, বিপর্যয় ঘটছে পরিবেশের।

 

এছাড়াও ভাটার গর্ভে চলে যাচেছ কৃষিজমির টপ সয়েল (উপরিভাগের মাটি)। ইট তৈরীর মাটির যোগান তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বরা মাটি (টপসয়েল) কেটে নেয়া হচ্ছে এই ইট ভাটায়।কয়লার বদলে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। আর ইট তৈরির মৌসুমকে ঘিরে ভাটাগুলোতে মজুদ করা হয়েছে ফসলী জমির মাটি ও খড়ি। এতে এলাকার কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও গরম বাতাসে ফসরহানিসহ পরিবেশ দুষিত হয়ে জনজীবন দুর্বীসহ হয়ে পড়েছে।

 

সূত্র জানায়, প্রতিবছর অবৈধ এই ভাটাতে প্রায় শত বিঘা ফসলি জমির টপ সয়েল পোড়ানো হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত ১৯৯২ সালের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে কৃষি-জমিতে ইটভাটা নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ ও ইট প্রস্তুত এবং ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩, কৃষি জমিতে ভাটা স্থাপন সম্পুর্ন  নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বড়াল মাঠে চার ফসলি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা মেসার্স এএমএসএস ইট ভাটায় ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিশাল মজুদ করা হয়েছে। ভাটাতে জ্বালানী হিসেবে কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। অথচ সরকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করে। কিন্ত আইন রয়েছে আইনের জায়গায়, বাস্তবে নেই কোনো প্রয়োগ। ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভাঁটা মালিক। কোনরকম অনুমোদন ছাড়াই ফসলি জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে এই ইট ভাটা। এলাকার কৃষিজমির টপ সয়েল দিয়েই তৈরি হচ্ছে ফাঁপা, ও ছিদ্রবিহীন ইট। কালো ধোঁয়ায় এলাকা আচ্ছন্ন করে তৈরি করা হয় ইট। আর গ্রামীণ সড়ক ব্যাবহার করে পরিবহন করা হয় ইট ও ইট তৈরীর মাটি। বেলনা কারিগরি কলেজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন অবৈধ ইট ভাটার কারণে মাঠে ফসলহানিসহ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

 

কৃষক বাবলু, রহিম ও জামাল বলেন, এই ইট ভাটার কারনে তারা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভাটার কালো ধোঁয়া ও গরম বাতাসে জমির ফসলহানি হচ্ছে, তারা দ্রুত অবৈধ ভাটা অপসারণ করার দাবি করেছেন। বিগত ২০১৩ সালের আইনে কৃষি জমিতে ভাটা স্থাপনের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স দিতে পারবে না। আইনে আরও উল্লেখ রয়েছে ইটে অবশ্যই হ্যালো ফ্লাক্স থাকতে হবে। জ্বালানি হিসেবে কাঠ, বাঁশের মোথা, ও খেজুর গাছের গুড়ি ব্যবহার করা যাবে না। খাল, নদী, পতিত জমি ব্যতীত ফসলী জমির মাটি ব্যবহার করা যাবে না এমনকি অতিরিক্ত সালফার, অ্যাশ, মারকারি বা অনুরূপ উপাদান সম্বলিত কয়লা ব্যবহার করা যাবে না ইত্যাদি আরো অনেক নিয়ম রয়েছে যা পরিবেশ রক্ষার জন্যই করা হয়েছে। এ অবৈধ ইটভাটার কারণে পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আশেপাশের জমিগুলো অনুর্বর করে তুলেছে, অল্পতে  শুকিয়ে যাচ্ছে জমির পানি। অবৈধ ট্রাক্টঁর, ট্রলি ও নছিমন-করিমনে মাটি ও ইট পরিবহন করায় গ্রামীণ সড়কগুলো প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষসহ কৃষকেরা।

 

এবিষয়ে ভাটার ম্যানেজার বলেন, সারাদেশে যেভাবে ভাটা চলছে, তারাও সেভাবে ভাটা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, মেলান্দী গ্রামের হাফেজ এর পুত্র সাগর ভাটা পরিচালনা করছেন।

 

এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বলেন, কৃষি জমিতে ভাটা স্থাপন করার কারণে কৃষিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এর আশেপাশে ও কয়েক কিলোমিটার ভিতরে থাকা ফসলগুলো কখানো কখানো দশ থেকে একশ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। অত্র এলাকায় আমের গাছে মুকুল আসবে না মুকুল আসলেও গুটি অবস্থায় আম ঝরে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews