
রিপোর্টার : সোহেল রানা
দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ইকো-ট্যুরিজমের প্রসারে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত ‘ইকো-ট্যুরিজম প্রসারে সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ, এনডিসি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের পর্যটন খাতে প্রত্যাশিত উন্নয়নের নজির কম। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, সরকারের প্রথম পাঁচ মাসেই পর্যটন খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথ সহজ নয়। এ লক্ষ্য অর্জনে পর্যটন খাতের সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা জরুরি। এ জন্য প্রতি মাসে বেসরকারি অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে তথ্যের ঘাটতি ও সমন্বয়হীনতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
দেশের গ্রামীণ পর্যটন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগরসহ বিভিন্ন গ্রামকে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ৬৪ জেলার পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানগুলো চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।
সেমিনারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে তথ্যের ঘাটতি দূর করতে ইতোমধ্যে Tourism Satellite Account (TSA)-এর কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজম নীতিমালা প্রণয়নের কাজও চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে সমন্বয়হীনতার কারণে পর্যটন খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় এই সমন্বয়হীনতা দূর করে দেশের পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
সেমিনারে বাংলাদেশে ইকো-ট্যুরিজমের গুরুত্ব, বর্তমান অবস্থা, উন্নয়নের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, কর্মপরিকল্পনা ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম।
সেমিনারে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, অংশীজন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।