শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুরে বিশেষ অভিযানে চাপাতিসহ ২ জন গ্রেপ্তার  পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি, দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার গাজীপুরে হোটেল কক্ষে গৃহবধূ হত্যা; ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদ্‌ঘাটন করলো পিবিআই  তামার তারে নির্যাতন, ২১ মাস পর নাঈম হত্যার রহস্য উন্মোচিত করলো- পিবিআই  রূপসায় চিংড়ি বণিক সমিতির ব্যবসায়ীদের সাথে জেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সভা অনুষ্ঠিত।  মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে ভূমি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবাবের সংবাদ সম্মেলন।   টাঙ্গাইলে দুটি হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী কালিহাতীর কারিশমা – ২  শাঁক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা,একই স্থানে একই নামে একাধিক প্রকল্প করে অর্থ আত্মসাৎ !  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ১৩ বছরের শিশুকে অপহরণের পর ধর্ষণ, চট্টগ্রাম থেকে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার। গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাপতি – এম মঞ্জুরুল করিম রনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন, হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা

রাজউকের চুরান্ত নোটিশেরও তোয়াক্কা করছেনা ভবন মালিক 

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

 

 

রাজধানীর মিরপুরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধ ভবনে ভাড়াটিয়া উঠছে, নিচতলার গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় অবৈধ রুম নির্মাণ

 

 

নার্গিস রুবি: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জোনাল অফিস ৩/২ এর আওতাধীন মিরপুর এলাকায় রাজউকের চুরান্ত নোটিশের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে নির্মিত ভবনটি এখন ভাড়া দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অকুপেন্সি সার্টিফিকেট ছাড়াই ভবনে লোক উঠছে এবং নিচতলায় গাড়ি পার্কিংয়ের নির্ধারিত জায়গায় অবৈধভাবে রুম নির্মাণ করা হয়েছে। এসব অনিয়মের কারনে রাজউক থেকে ইউটিলিটি সার্ভিস (গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ) সেবা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে নোটিশ দিয়েছে। ভবন মালিককে একাধিকবার সতর্ক করলেও কোনো তোয়াক্কা করছেন না তিনি।

 

জানা যায়, বাড়ি নং ৮/৯, রোড ১, ব্লক ই, মিরপুর ১ ঢাকার ঠিকানায় ৩ দশমিক ৫৯ কাঠা জমির ওপর জি ৯ উচ্চতায় ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। ভবন মালিক অন্য বাড়ির সীমানা ওয়াল ঘেঁসে ভবন নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভবনটির চতুর্দিকে অতিমাত্রায় নকশা বিচ্যুতি (ডেভিয়েশন) করা হয়েছে এবং সেটব্যাক যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

 

ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮ এর ৪(১) ধারায় কোনো ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ কাজ সম্পাদন করা বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই বিধিমালার ৪(২) ধারায় নির্মাণ কাজে কোনোরূপ বিচ্যুতি বা পরিবর্তন করা হলে তা অবৈধ বলে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক বলে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। বিধিমালার ৬ ধারায় প্রতিটি প্লটের চারপাশে নির্ধারিত সেটব্যাক বা খোলা জায়গা রাখতে হবে এবং উক্ত স্থানে কোনো ধরনের নির্মাণ কাজ করা যাবে না বলে বিধান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত ভবনের ক্ষেত্রে সেটব্যাক যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং অন্য বাড়ির সীমানা ওয়াল ঘেঁসে নির্মাণ করা হয়েছে, যা প্রতিবেশী ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

 

বিধিমালার ৭ ধারায় নির্মাণ কাজের সময় নির্মাণ শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই বিধিমালার ৮ ধারায় নির্মাণাধীন ইমারতের চারপাশে সেফটিনেট বা নিরাপত্তা বেষ্টনী ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত ভবনের নির্মাণ কাজে কোনো ধরনের সেফটিনেট ব্যবহার করা হয়নি, যা নির্মাণ শ্রমিক ও পথচারীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে।

 

ইমারত নির্মাণ আইন, ২০০৪ এর ১২ ধারায় অনুমোদিত নকশা বা পরিকল্পনা ব্যতিরেকে কোনো ইমারত নির্মাণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই আইনের ১৩ ধারায় অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে নির্মাণ কাজ পরিচালনার জন্য জরিমানা ও ইমারত ভেঙে ফেলার শাস্তির বিধান রয়েছে। আইনের ১৫ ধারায় ইমারত পরিদর্শকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ১৬ ধারায় অবৈধ নির্মাণ বন্ধে করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জোন ৩/২ এর ইমারত পরিদর্শক আলিনুর বলেন, ভবনের অনিয়মের কারণে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না পাওয়ায় চুরান্ত নোটিশ জারি করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অথরাইজড অফিসার মাসুক আহমেদ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

 

ভবন মালিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিরপুর ১ এলাকায় একের পর এক অবৈধ ভবন গজিয়ে উঠছে এবং রাজউকের তদারকির ঘাটতি রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, সেফটিনেট ব্যবহার না করায় নির্মাণ শ্রমিক ও পথচারীরা প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঝুঁকিতে রয়েছেন। স্থানীয়রা অবিলম্বে উক্ত ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

রাজউক সূত্র জানায়, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বিধিমালার ২২ ধারায় রাজউকের পরিদর্শক বা অনুমোদিত কর্মকর্তাকে যেকোনো সময় নির্মাণাধীন ইমারত পরিদর্শনের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে এবং আইন লঙ্ঘন পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। একই বিধিমালার ২৩ ধারায় অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে নোটিস জারি ও জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে এবং ২৫ ধারায় অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার ক্ষমতা রাজউককে প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, উক্ত ভবনের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ইমারত নির্মাণ কাজে নির্মাণ শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য সেফটিনেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। রাজউকের কঠোর তদারকি বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করলে এ ধরনের অনিয়ম রোধ সম্ভব। একই সাথে প্রতিবেশী ভবনের সীমানা ওয়াল ঘেঁসে নির্মাণ কাজ বন্ধে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews