
রিপোর্টার : সোহেল রানা
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (হশআবি) নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নতুন ২৫টি এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি) সংযোজন করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এসব অত্যাধুনিক যন্ত্র পরিচালনার জন্য এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) নির্বাচিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্থানীয় প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে।
নতুন সংযোজিত NUCTECH TR2000DC মডেলের ইটিডি পরিচালনা বিষয়ে যন্ত্রটির মূল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের (ওইএম) বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে এভসেকের মোট ৪৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশ নেন।
প্রশিক্ষণে যন্ত্রটির সঠিক পরিচালনা, নমুনা সংগ্রহ, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং অপারেশনাল নিরাপত্তা বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা প্রদান করা হয়।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, NUCTECH TR2000DC আধুনিক ট্রেস ডিটেকশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অতি সামান্য পরিমাণে অবশিষ্ট থাকা বিস্ফোরক ও অবৈধ মাদকজাতীয় পদার্থ শনাক্ত করতে সক্ষম। যন্ত্রটিতে আয়ন মোবিলিটি স্পেকট্রোমেট্রি (IMS) প্রযুক্তি এবং অ-তেজস্ক্রিয় আয়নীকরণ উৎস ব্যবহৃত হয়েছে।
ফলে যাত্রীদের ব্যাগেজ, কার্গো ও বিভিন্ন পৃষ্ঠে থাকা অতি ক্ষুদ্র মাত্রার সন্দেহজনক পদার্থ দ্রুত শনাক্ত করতে নতুন এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন ইটিডি সংযোজনের ফলে শাহজালাল বিমানবন্দরে বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তকরণের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা তল্লাশির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এটি বিমানবন্দরের প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জামের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত জনবলের যথাযথ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রশিক্ষণ, ব্যবহারিক অনুশীলন ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা নির্ধারিত পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ইটিডির সক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারবেন।
এদিকে নভেম্বর ২০২৬-এ আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) অডিট সামনে রেখে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আরও জোরদারে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বেবিচক জানিয়েছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর পর্যায়ক্রমে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম; ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট; এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সংশ্লিষ্ট জনবলের জন্য একই ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।