
লুৎফর রহমান হীরা, চাটমোহর, পাবনাঃ
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলে নতুন পানি প্রবেশ করেছে। নতুন পানির প্রবাহে বিলের বিভিন্ন াজলাশয়ে দেশি প্রজাতির ছোট মাছের উপস্থিতি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এর ফলে চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন দেশি মাছের ব্যাপক আমদানি ও জমজমাট বেচাকেনা চলছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, গত তিন দিন ধরে তাদের জালে প্রচুর দেশি মাছ ধরা পড়ছে।তাড়াশের হামকুরিয়া বাজার,মহিষলুটি মাছের আড়ত,কাছিকাটা বাজার,চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল বাজার,চারমাথা বাজার সহ সিংড়া বাসস্ট্যান্ডের সকালের খুচরা মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় দুই শতাধিক পেশাদার ও মৌসুমি জেলে টেংরা, পুঁটি, কৈ, শোল, শিং, গুচিসহ নানা প্রজাতির মাছ বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন।
পৌরসভার চকসিংড়া গ্রামের জেলে মালেক সরদার বলেন, “কয়েক দিন ধরে বিলে ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। নতুন পানিতে মাছের চলাচল বেড়েছে। তবে জাল ফেললেই মাছের সঙ্গে ডিমওয়ালা ছোট মাছও ধরা পড়ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ জেলে অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে অনেকেই নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি জাল’ ব্যবহার করছেন। এ ধরনের জালে বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নির্বিচারে ধরা পড়ছে, যা ভবিষ্যতে দেশি মাছের উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে বাজারে মাছের সরবরাহ বেড়েছে, তবে দাম কমেনি। এতে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা গেছে। সিংড়া বাসস্ট্যান্ড বাজারে মাছ কিনতে আসা স্কুলশিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, “মাছের আমদানি বেশি হলেও দাম আগের মতোই রয়েছে। তবে নতুন পানির মাছের স্বাদ আলাদা হওয়ায় একটু বেশি দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে।”
বাজার ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে মাঝারি চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, ছোট গুচি ৬০০ টাকা, মাঝারি গুচি ৮০০ টাকা, টেংরা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, ছোট পুঁটি ১০০ টাকা, মাঝারি পুঁটি ২০০ টাকা, কৈ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, চান্দা ২০০ টাকা, শোল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং মাঝারি বোয়াল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শুধু সিংড়া বাসস্ট্যান্ড বাজারেই নয়, উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত ডাহিয়া, সাতপুকুরিয়া, বিয়াশ ও জামতলীর সাপ্তাহিক হাটগুলোতেও দেশি মাছের আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডাহিয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি অস্থায়ী পাইকারি মাছের আড়ৎ, যেখানে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত খুচরা ও পাইকারি কেনাবেচা হয়।
এ ছাড়া ডাহিয়া ব্রিজের পাশাপাশি পারিল ব্রিজ ও বিয়াশ মাবিয়া মোড় এলাকাতেও অস্থায়ী পাইকারি ও খুচরা মাছের বাজার বসছে। এসব বাজারে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হচ্ছে। এখান থেকে ট্রাক ও পিকআপযোগে মাছ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
হামকুড়িয়া গ্রামের বাবলু হোসেন ও সাইফুল ইসলাম বলেন, নতুন পানির কারণে চলনবিলে দেশি মাছের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তবে দেশি মাছের উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ রক্ষায় নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি জাল’-এর ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।