
মোঃ রেজাউল করিম (ব্যুরোচীফ কুমিল্লা)
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের দীর্ঘভূমি নমশূদ্র বাড়ি সংলগ্ন প্রধান সড়কের একটি অংশ যেন এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি পরিণত হয় জলাবদ্ধতা ও বড় বড় গর্তে ভরা এক বিপজ্জনক পথে। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ১৭টি গ্রামের হাজারো মানুষ। প্রায়ই সড়কে অটোরিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেল উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা, আহত হচ্ছেন নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। তবুও যেন দেখার কেউ নেই।
স্থানীয়রা জানান, দুলালপুর ও সিদলাই ইউনিয়নের অন্তত ১৭টি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র প্রধান সড়ক এটি। প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করে মানুষ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা কমপ্লেক্স, দীর্ঘভূমি উচ্চ বিদ্যালয়, বেজোড়া উচ্চ বিদ্যালয়, গোপালনগর উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা, দুলালপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। অথচ সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান পানি জমে সড়কের গর্তগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে কখন কোথায় দুর্ঘটনা ঘটবে, সেই আতঙ্ক নিয়েই চলাচল করতে হয়।
দীর্ঘভূমি এলাকার বাসিন্দা আবু কালাম বলেন, “এটি উপজেলা সদরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলেই মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে যায়। রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত টেকসই সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
গোপালনগরের বাসিন্দা শামীম আহমেদ বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু বর্ষা এলেই এটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। প্রায়ই অটোরিকশা উল্টে মানুষ আহত হচ্ছে। এত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন অবস্থা সত্যিই দুঃখজনক।”
মোশারফ হোসেন খান চৌধুরী কলেজের শিক্ষার্থী উম্মে হাফসা বলেন, “প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে কলেজে যেতে হয়। ভাঙা অংশে পৌঁছালেই আতঙ্ক কাজ করে। ইতোমধ্যে দু-একবার অটোরিকশা উল্টে আমি নিজেও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি।”
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি মহসিন কবির সরকার বলেন, “সড়কটির উন্নয়নে কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কাজ সম্পন্ন করে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।”
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাপ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “সড়কটির নতুন করে টেন্ডার হয়েছে। আগে ১২ ফুট প্রশস্ত সড়কটি এখন ১৮ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। অতীতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কয়েকবার মেরামত করা হলেও এবার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চলছে। আগামী ২০২৭ সালের জুনের আগেই পুরো প্রকল্প শেষ হওয়ার আশা করছি।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রকল্প শেষ হতে যদি আরও প্রায় এক বছর সময় লাগে, তাহলে ততদিন কি সাধারণ মানুষকে এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হবে? তাদের দাবি, স্থায়ী উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে জনস্বার্থে অবিলম্বে ভাঙা অংশে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।