
নার্গিস রুবি: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জোনাল অফিস ৩/২ এর আওতাধীন মিরপুর এলাকায় ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, বাড়ি নং ৮/৯, রোড ১, ব্লক ই, মিরপুর ১ ঢাকার ঠিকানায় ৩ দশমিক ৫৯ কাঠা জমির ওপর জি ৯ উচ্চতায় ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। ভবন মালিক অন্য বাড়ির সীমানা ওয়াল ঘেঁসে ভবন নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবনটির চতুর্দিকে অতিমাত্রায় নকশা বিচ্যুতি (ডেভিয়েশন) করা হয়েছে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮ এর ৪(১) ধারায় কোনো ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ কাজ সম্পাদন করা বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই বিধিমালার ৪(২) ধারায় নির্মাণ কাজে কোনোরূপ বিচ্যুতি বা পরিবর্তন করা হলে তা অবৈধ বলে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক বলে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।
বিধিমালার ৬ ধারায় প্রতিটি প্লটের চারপাশে নির্ধারিত সেটব্যাক বা খোলা জায়গা রাখতে হবে এবং উক্ত স্থানে কোনো ধরনের নির্মাণ কাজ করা যাবে না বলে বিধান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত ভবনের ক্ষেত্রে সেটব্যাক যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং অন্য বাড়ির সীমানা ওয়াল ঘেঁসে নির্মাণ করা হয়েছে, যা প্রতিবেশী ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
বিধিমালার ৭ ধারায় নির্মাণ কাজের সময় নির্মাণ শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই বিধিমালার ৮ ধারায় নির্মাণাধীন ইমারতের চারপাশে সেফটিনেট বা নিরাপত্তা বেষ্টনী ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত ভবনের নির্মাণ কাজে কোনো ধরনের সেফটিনেট ব্যবহার করা হয়নি, যা নির্মাণ শ্রমিক ও পথচারীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে।
ইমারত নির্মাণ আইন, ২০০৪ এর ১২ ধারায় অনুমোদিত নকশা বা পরিকল্পনা ব্যতিরেকে কোনো ইমারত নির্মাণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই আইনের ১৩ ধারায় অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে নির্মাণ কাজ পরিচালনার জন্য জরিমানা ও ইমারত ভেঙে ফেলার শাস্তির বিধান রয়েছে। আইনের ১৫ ধারায় ইমারত পরিদর্শকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ১৬ ধারায় অবৈধ নির্মাণ বন্ধে করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জোন ৩/২ এর ইমারত পরিদর্শক আলিনুর বলেন, ভবনের অনিয়মের কারণে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, নোটিশের জবাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অথরাইজড অফিসার মাসুক আহমেদ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভবন মালিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিরপুর ১ এলাকায় একের পর এক অবৈধ ভবন গজিয়ে উঠছে এবং রাজউকের তদারকির ঘাটতি রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, সেফটিনেট ব্যবহার না করায় নির্মাণ শ্রমিক ও পথচারীরা প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঝুঁকিতে রয়েছেন। স্থানীয়রা অবিলম্বে উক্ত ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রাজউক সূত্র জানায়, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বিধিমালার ২২ ধারায় রাজউকের পরিদর্শক বা অনুমোদিত কর্মকর্তাকে যেকোনো সময় নির্মাণাধীন ইমারত পরিদর্শনের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে এবং আইন লঙ্ঘন পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। একই বিধিমালার ২৩ ধারায় অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে নোটিস জারি ও জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে এবং ২৫ ধারায় অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার ক্ষমতা রাজউককে প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, উক্ত ভবনের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইমারত নির্মাণ কাজে নির্মাণ শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য সেফটিনেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। রাজউকের কঠোর তদারকি বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করলে এ ধরনের অনিয়ম রোধ সম্ভব। একই সাথে প্রতিবেশী ভবনের সীমানা ওয়াল ঘেঁসে নির্মাণ কাজ বন্ধে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।