
রিপোর্টার: সোহেল রানা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক জারিকৃত এসআরও নং ১৯৭-আইন/২০২৬ বাতিলের দাবিতে বুধবার রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় কাস্টমস হাউস ঢাকা গেট সংলগ্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সভাপতি আবু হানিফ, সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম রাকিব, ইউনিয়নের অন্যান্য নেতাকর্মী, কাস্টমস সংশ্লিষ্ট কর্মচারী, সি এন্ড এফ (C&F) ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টদের প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত ২১ জুন প্রতিবাদ সভা এবং ২২ জুন প্রতিবাদ মিছিলের ধারাবাহিকতায় এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এনবিআর প্রস্তাবিত এসআরও নং ১৯৭ দেশের বিদ্যমান কাস্টমস ও বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর এবং এটি রাষ্ট্রের রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাকে দুর্বল করার আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন,
এসআরও নং ১৯৭ বাস্তবায়িত হলে চোরাচালানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম জটিল হয়ে উঠবে এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সি এন্ড এফ এজেন্টদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা না করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে এ ধরনের আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ও মতবিনিময় ছাড়াই আইনটি প্রস্তাব করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
আন্দোলনকারীদের মতে,
এসআরও ১৯৭-এর আওতায় এয়ার কার্গো অপারেটরস স্টেশন (ACOS) বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপন করতে হবে এবং এর জন্য ন্যূনতম এক একর জমি ও এক হাজার মেট্রিক টন পণ্য ধারণক্ষমতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো বিমানবন্দরের বাইরে নিজস্ব সুবিধামতো স্থানে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে।
বক্তারা আরও বলেন, অফ-ডক সিস্টেমের আওতায় কার্গো খালাস, সংরক্ষণ ও কাস্টমস কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হলে যথাযথ নজরদারির অভাবে রাজস্ব ফাঁকি ও বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিক্ষোভকারীরা জোর দিয়ে বলেন, তাদের এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের স্বার্থ ও রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে।
তারা অবিলম্বে এসআরও নং ১৯৭ বাতিলের দাবি জানান এবং দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
কর্মসূচি চলাকালে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।