রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রূপসা প্রেসক্লাবে চায়ের আড্ডায় চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ শফিকুল ইসলাম,গুরুত্ব পেল সুপেয় পানি ও জলাবদ্ধতা নিরসন ।  জাইমা রহমানের জন্মদিনে শিবগঞ্জে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, সাইকেল পেলেন ৫৪৮ ছাত্রী ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধের অনুরোধ রাজউকের। মিরপুরে নকশা ছাড়াই ৪ তলা ভবন নির্মাণ, ৭ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত নোটিশ জারি কয়রায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ‍্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ  মানিকগঞ্জে২৫ বছরের সংসার ফেলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলের সাথে মুসলিম পরিবারের এক নারী চলে গেছে      জাইমা রহমানের জন্মদিনে বগুড়ায় দুই হাজার অসহায়কে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা আমরাও চাই হাসিনা দেশে ফিরুক, মানুষ তাঁর বিচার দেখতে চায়” : মীর শাহে আলম টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের কমিটি গঠিত  শ্রীপুরে বিজয়া দশমী উপলক্ষে সম্প্রীতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে পূজা মন্ডপে একজনকে পিটিয়ে গুরুতর জকম। 

রেটিনোব্লাস্টোমায় আক্রান্ত শিশু সাজিদের পাশে ব্রাহ্মণপাড়া ইউএনও মাহমুদা জাহান “একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে যা প্রয়োজন, উপজেলা প্রশাসন তা করার চেষ্টা করবে…..

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ২০২ বার পড়া হয়েছে

 

মোঃ রেজাউল করিম (ব্যুরোচীফ কুমিল্লা)

 

ছয় মাস বয়সী শিশু সাজিদ। পৃথিবীটাকে ঠিকমতো দেখার আগেই তাকে লড়তে হচ্ছে মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে। চোখের ক্যান্সার রেটিনোব্লাস্টোমায় আক্রান্ত এই শিশুকে ঘিরে এখন উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তার পরিবারের।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কল্পবাস গ্রামের অটোরিকশা চালক মো. হালিম মিয়ার সংসারে যেন একের পর এক নেমে এসেছে দুর্ভাগ্যের ছায়া। এর আগেও একই রোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের এক পুত্র সন্তান পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। সেই শোক কাটতে না কাটতেই ছোট ছেলে সাজিদের শরীরেও ধরা পড়ে একই রোগ। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের আরেক কন্যা সন্তানকেও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হচ্ছে।

অসহায় এই পরিবারের করুণ বাস্তবতার খবর পেয়ে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান। তিনি পরিবারটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন এবং শিশুটির চিকিৎসা সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

শিশু সাজিদের চিকিৎসা যেন অর্থাভাবে বন্ধ না হয়ে যায়, সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তার জন্য প্রতিবন্ধী কার্ডের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি ক্যান্সার রোগীদের জন্য সরকারি অনুদানের আওতায় ৫০ হাজার টাকা পাওয়ার লক্ষ্যে আবেদন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়াও পরিবারটির হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ইউএনও মাহমুদা জাহান বলেন,

 

“একটি শিশুর কষ্ট কখনোই উপেক্ষা করার মতো নয়। সাজিদের বিষয়টি জানার পর আমি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি। একটি পরিবার ইতোমধ্যে একই রোগে একটি সন্তান হারিয়েছে। এখন আরেকটি শিশুর জীবন বাঁচানোর সংগ্রামে তারা একা নয়। উপজেলা প্রশাসন তাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।”

 

তিনি আরও বলেন,

“সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা যেন পরিবারটি পায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও শিশুটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।”

চোখে জল আর বুকভরা কষ্ট নিয়ে সাজিদের বাবা মো. হালিম মিয়া বলেন,

“একটি সন্তানকে একই রোগে হারিয়েছি। এখন ছোট ছেলে সাজিদকে বাঁচানোর জন্য দিন-রাত চেষ্টা করছি। কিন্তু চিকিৎসার খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ইউএনও ম্যাডাম আমাদের খোঁজ নিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি সবার কাছে আমার ছেলের জন্য দোয়া ও সহযোগিতা চাই।”

স্থানীয়দের মতে, মানবিক ও দায়িত্বশীল প্রশাসনের এমন উদ্যোগ অসহায় পরিবারটির জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে। তবে সাজিদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য আরও বড় পরিসরে সহায়তা প্রয়োজন। তাই সমাজের হৃদয়বান মানুষ, প্রবাসী ও দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

একটি শিশুর হাসি ফিরিয়ে দিতে, একটি পরিবারকে আরেকটি সন্তান হারানোর বেদনা থেকে রক্ষা করতে—সাজিদের পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews