
নঈমুল আলম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ রাজধানীর দক্ষিণখানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পল্লবী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগী ওয়াসিমকে ২৩ আগষ্ট (রবিবার) রাতে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফহিম উদ্দিন ও পল্লবী থানার ওসি হাসান বশির গণমাধ্যমকর্মীদেরকে নিশ্চিত করেছেন ।এর আগে, রোববার মধ্যরাতে দক্ষিণখানের আজমপুর কাঁচাবাজার বিসমিল্লাহ্ পল্লী এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শফিকুল ইসলাম টাঙ্গাইলের মধুপুর থানা দিন মাঝিরা গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে এবং ওয়াসিম কিশোরগঞ্জের টাড়াইল সারাদিন তালভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে।গ্রেপ্তারের ঘটনায় দক্ষিণখান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শফিকুল ইসলাম পল্লবী থানার এএসআই হিসেবে কর্মরত। তিনি ও তার সহযোগী বিসমিল্লাহ পল্লী ভবনের নিচতলার এ-ওয়ান ফ্ল্যাটে থাকেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসার সামনে থেকে প্রথমে ওয়াসিমকে আটক করে পুলিশ। তখন ওয়াসিমের পরিহিত জিন্স প্যান্টের সামনের ডান পকেটেকে থাকা জিপার পলিপ্যাকে থাকা ৫০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।ওয়াসিমকে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিসমিল্লাহ্ পল্লীর ৬৭ নং বাড়ির নূর বিল্ডিংয়ের এ-ওয়ান ফ্লাটে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শফিকুল ইসলাম পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। ওই সময় শফিকুল ইসলামের সঙ্গে থাকা কালো রংয়ের ব্যাগের ভেতরে নীল রংয়ের জিপার থেকে ২০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।ওই ফ্লাটের শয়ন কক্ষের কাঠের বক্সের ড্রয়ার থেকে ৮টি পলিপ্যাকের জিপার থেকে ১ হাজার ৪৮০ পিস ইয়াবা এবং ১৮টি জিপার থেকে ৩ হাজার ৫৮০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে রাজধানীর দক্ষিণখান ও এর আশপাশ এলাকায় মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছিলেন বলে জানিয়েছেন।
দক্ষিণখান থানার ওসি ফহিম উদ্দিন বলেন, দক্ষিণখানের কাঁচাবাজার বিসমিল্লাহ্ পল্লী এলাকায় থেকে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ শফিকুল ইসলাম ও ওয়াসিম নামের দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এক প্রশ্নের জবাবে ওসি ফহিম উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া শফিকুল ইসলাম পুলিশের এএসআই বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। শফিকুল ইসলাম পল্লবী থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় পল্লবী থানার ওসি হাসান বশিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, শফিকুল ইসলাম আমার থানায় যোগদানের পর আট-দশ দিন ডিউটি করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি অনুপস্থিত। কিন্তু কি কারণে অনুপস্থিত, সে ব্যাপারে তিনি কাউকে কিছু জানাননি।