বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্বাস্থ্য সেবায় ইউনিয়ন হেলথ কমপ্লেক্স হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো:সাখওয়াত হোসেন  গাজীপুরে নাশকতা ঠেকাতে রাজপথে থাকার ঘোষণা বিএনপির কালিয়া থানার আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ সম্পন্ন সালথায় ২ শতাধিক চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান কোকডহড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নজরুল ইসলামের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত শাহজালালে উড়োজাহাজের টয়লেট থেকে ৫০ স্বর্ণবার উদ্ধার উলিপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের দূর্নীতি! দেখার কেউ নেই কালিহাতীতে বেসরকারী সংস্থার বই পাঠ্যসূচীতে! সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের নানা অভিযোগ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত  নড়াইলে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার অভিযোগে ৯ জন গ্রেফতার

উলিপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের দূর্নীতি! দেখার কেউ নেই

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

 

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ॥

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঢুকতেই ডানদিকের দেয়ালে লেখা “আমি ও আমার কার্যালয় দূর্নীতিমুক্ত।” অথচ এই অফিসের দূর্নীতিতেই জিম্মি উপজেলার জমি দাতা ও গ্রহীতারা। সেরেস্তা নামক অদৃশ্য শক্তি, দলিল লেখক, স্ট্যাম্প ভেন্ডার ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে আগস্ট এই ৮ মাসে অফিস খরচ, মসজিদ উন্নয়ন আর দলিল লেখক সমিতির নামে লুটে নেয়া হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। সাব রেজিস্ট্রার অফিস কেন্দ্রিক ওই সিন্ডিকেট সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন জমির শ্রেনি পরিবর্তন দেখিয়ে সাফ-কবলা দলিলের পরিবর্তে হেবাবিল এওয়াজ কিংবা দানপত্রের দলিল রেজিষ্ট্রি করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। উলিপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে যে কোন মূল্যে সেবা গ্রহীতাদেরকে হয়রানীর হাত থেকে রক্ষার্থে দূর্নীতি দমন কমিশন (দূদক)কে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন উলিপুরের সচেতন মহল। অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জানুয়ারী থেকে আগস্ট এই ৮ মাসে উলিপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ৬ হাজার ৪৩টি দলিল সম্পাদন হয়েছে। ওই দলিল গুলোর মধ্যে হেবাবিল এওয়াজ আমমোক্তার নামা, দানপত্র ও ঘোষণাপত্র দলিলও আছে। সরেজমিন গিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে স্থানীয় সিন্ডিকেটের ভয়ে মুখ খুলতে চান না অনেকে। দলিল লেখকদের মধ্যেও অনেকে মারাত্মক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে জানা যায়। কিন্তু সমিতির দোহাই দিয়ে নেমে আসবে নির্যাতন সেই ভয়ে তাদের কেউই মুখ খোলেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লেখকের ভাষ্য, দলিল প্রতি তাদের কাছ থেকে সাফ কবলা দলিলের জন্য ৬ হাজার টাকা আর হেবা কিংবা দানপত্র দলিলের জন্য ৬ হাজার ৪ শত টাকা নেয়া হয়। ওই টাকা থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা সেরেস্তার নাম করে যায় সাব রেজিস্ট্রার এর পকেটে আর বাকী টাকা সমিতির নামে রাখা হলেও দিন শেষে বঞ্চিত থেকে যান তারা। সমিতির কার্যকরী কমিটি লিখিত না হলেও মৌখিক ওই কমিটির কাছেই জিম্মি হয়ে তারা কাজ করতে বাধ্য। গুনাইগাছ ইউনিয়নের জমিদাতা ভুক্তভোগী ইয়াকুব আলী জানান, আমার জমি দলিল করতে সরকারী ফি ছাড়াও অফিসের খরচের কথা বলে ৬ হাজার টাকা নিয়েছে। আমি ৩ হাজার টাকা দিতে চাওয়ায় আমার সঙ্গে অযাচিত আচরণের কারণে তাদের দাবীকৃত টাকা দিতে বাধ্য হই। আরেক ভুক্তভোগী জানান, মঙ্গলবার আমার একটা কাগজের সমস্যা দেখিয়ে ৬ হাজার টাকা ছাড়াও বাড়তি ১ হাজার টাকার দাবী করা হয়। আমি দিতে না চাইলে পরের সপ্তাহে আমার দলিল সম্পাদন হবে বলে বিদায় করে। কিন্তু আমি আমার লোকজন সহ পরের সপ্তাহে আসতে চাইলে প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ হবে। তাই বাধ্য হয়ে তাদের দাবীর ১ হাজার টাকা দিয়ে দলিল সম্পাদন করি। গত আট মাসে ৬ হাজার ৪৩টি দলিলে মসজিদের উন্নয়ন বাবদ ১০০ টাকা হারে প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকা আদায় হলেও ওই টাকা নির্দিষ্ট কয়েকটি মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনের বেতন ভাতা দেয়া ছাড়া কোথায় কিভাবে খরচ করা হয় তা কেউ জানে না বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত আট মাসে সেরেস্তার নামে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা অতিরিক্ত নেয়া উলিপুর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার ওয়াহেদুল ইসলাম এর মন্তব্য নেয়ার জন্য সেল ফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করেননি। এমনটি টেক্সট মেসেজ করলে কোন উত্তর দেন নাই। দলিল লেখক সমিতির নামে প্রায় ২ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায়ের ব্যপারে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক খান জানান, আমরা সরকারী ফিসের বাইরে আমাদের পারিশ্রমিক বাবদ দলিল প্রতি ৩ হাজার টাকা নেয়া হয়। কিন্তু কোন সেবা গ্রহীতা দিতে অপারগ হলে জোড় করে নেয়া হয় না। আর মসজিদের উন্নয়নের টাকা কয়েকটি মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনের বেতন ভাতা ও সংস্কারের কাজের ব্যবহার করা হয়। জেলা রেজিস্ট্রার রুহুল কুদ্দছ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার কোন মন্তব্য নেই। আপনি পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews