
ওসমান গনি
স্টাফ রিপোর্টার
মুন্সিগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই। দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে (১৬ মে) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তার মেয়ে তাসনিম সিনহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর তালিকায় তার নামও আসে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরবর্তীতে ওই আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়।
মিজানুর রহমান সিনহা ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন দেশের ওষুধ শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ এবং [ACME Group] এর প্রতিষ্ঠাতা। তার মাতা ছিলেন নূরজাহান সিনহা। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত একটি পরিচিত স্থান হিসেবে পরিচিত।
শৈশবে তিনি কলকাতায় বেড়ে ওঠেন। পরে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পিতার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে তিনি একমি গ্রুপে যোগ দেন এবং ১৯৮৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ২২ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপির মনোনয়নে মুন্সিগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নূরুল ইসলাম খান বাদলকে এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে পরাজিত করেন তিনি।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কাজ ও দানশীলতার জন্যও এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। তার মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জ-২ আসনজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনসহ বিএনপি নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।