
মোঃ রেজাউল করিম (ব্যুরোচীফ কুমিল্লা)
কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী নিমসার কাঁচাবাজার এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভগের জায়গায় অবৈধ দোকান বসিয়ে ঢোল বানিজ্যের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাজার ইজারাদার সফিকুল ইসলাম ভূইয়ার নেতৃত্বে আব্দুল খালেক গং সিন্ডিকেট এই অপকর্মের মূল হোতা। এতে বাজারটিতে দুর দুরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারাও আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অতি সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দু’পাশে গড়ে উঠা অবৈধ দখলকৃত হানের দোকান-পাট ভেঙ্গে সেইস্থানে সতর্কিকরণ সাইন বোর্ড টানালেও ১২ ঘন্টার মাঝেই আবারো বেদখল হয়ে গেছে উদ্ধার হওয়া জমি।
সরেজমিন ঘুরে স্থানীয় একাধিক সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, জাতীয় প্রধান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার এলাকায় বাজারটির অবস্থান। বিগত শতাব্দির ‘৮০’র দশকের মাঝামাঝি বাজাটি চালু হওয়ার স্বল্প সময়ের মধ্যেই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বাজারটি ব্যাপকভাবে প্রসার ঘটে। প্রথম দিকে স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে আসলেও কালের পরিক্রমায় এক সময় সারাদেশ থেকে কৃষক, মধ্যস্বত্ত্বভোগী, ব্যবসায়ীরা শাক-সজি, তরিতরকারী, মৌসুমী ফলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকার পণ্য নিয়ে আসা শুরু করে এই বাজারে । বাজারের নির্দিষ্ট জায়গা সংকুলান না হওয়ায় একসময় সড়কের পাশে থাকা সরকারী সম্পত্তি বেদখল হতে থাকে। এতে সরকারী সম্পত্তি বেদখলের পাশাপাশি দেশের লাইফ লাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমসার এলাকায় প্রতিদিনই সন্ধ্যারাত থেকে পরদিন বেলা ৮/৯টা পর্যন্ত থেমে থেমে যানজন’সৃষ্টি হতো। সাথে রাস্তার উপর মালামাল লোড আনলোডিং, উল্টো পথে গাড়ি প্রবেশ ও বের করায় সড়কে বিশৃঙ্খলাও সৃষ্টি হতো। এঅবস্থায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রথমে নোটিশ ও পরবর্তীতে মাইকিং শেষে গত ৬ এপ্রিল সর্বশেষ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় একাধিক এস্কেভেটর ব্যবহার করে মহাসড়কের দুপাশে প্রায় ৪’শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে উদ্ধার হওয়া জমির একাধিকস্থানে এস্কেভেটর দিয়ে বড় বড় গর্ত খুঁড়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্র জানায়, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের লোকজন এলাকা ত্যাগ করার সাথে সাথেই বাজারের ইজারাদার সফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আব্দুল খালেক গং সিন্ডিকেটের সদস্যবা সড়কের দক্ষিণ পাশে ইসমাইল, বাছির ব্যাপারী, ডা. টিপু সুলতান, বাবুল হোসেন, আব্দুল মালেক, লিটন, নাজিম মেম্বার, আওয়াল, মাসুম, মতিন, আলম, জামাল, আব্দুল ওয়াহিদ, মিন্টু, আনোয়ার, হাদি, আমিন, তাহের প্রমুখ, সড়কের উত্তর পাশের কলেজ গেটের পশ্চিমে হাসান, স্বপন, হাসান (২), দুলাল, মানিকসহ আরো বেশ কিছু দখলদার আবারো সওজ’র জায়গা গুলো দখল করে সরকারি ভাবে বসানো নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড তুলে গর্তগুলোতে পুনরায় মাটি ভরাট শেষে বাঁশ, টিন, ব্যবহার করে বড় বড় আড়ৎ গড়ে তুলে। সূত্র মতে, এসব আড়ৎ থেকে এককালীন ছাড়াও প্রতিদিন সরকার নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ স্থানীয় কৃষকরা চরমভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বাজারের একাধিক দোকানী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিনিধিকে জানান, বাজারটি যে জায়গায় গড়ে উঠেছে, সেই জায়গার বাইরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের দখলকৃত জায়গার উপর গড়ে উঠা দোকানীদের কাছ থেকেও কয়েক দফা খাজনা নিচ্ছে ইজারাদার। এঅবস্থায় মহাসড়কের যানজট, সড়কে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে উচ্ছেদ অভিযান কোন সুফল বয়ে আনেনি। যার খেসারত বর্তমানে প্রতিদিনই নিমসার এলাকায় থেমে থেমে যানজট অব্যহত রয়েছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের দখলকৃত জায়গা থেকে খাজনা আদায়,কৃষকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত খাজনা আদায় ইত্যাদি বিষয়ে জানতে চাইলে নিমসার বাজারের ইজারাদার সফিকুল ইসলাম ভূইয়া বলেন আমার যতটুকু জায়গা আছে সেটুকু থেকে আমি খাজনা উঠাই। সরকারি জায়গায় ভাঙা কিংবা দোকান উঠানোর দায়িত্ব আমার না।
নিমসার এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা আবারো বেদখল হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মোস্তফা তিনি জানান সরকার কি প্রতিদিন উচ্ছেদ করবে নাকী। কিচ্ছু করার নেই। জনগণকে সচেতন হতে হবে।