
–
স্টাফ রিপোর্টার।।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে কেরানীগঞ্জের ভূমি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী একটি পরিবার। এই পরিবারের সদস্য অঞ্জন শেন গুপ্ত পিতা কৃষ্ণকান্ত সেন গুপ্ত, গ্রাম বাঘৈর থানা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, জেলা ঢাকা। তিনি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভিন্ন সংবাদ ও গণমাধ্যমে প্রচার করার প্রতিবাদে গত সোমবার সকালে নিজ বাসভবনে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন।
তারা কেরানীগঞ্জের বাঘের এলাকায় কর্তৃক বাড়িতে বসবাস করেন। বাঘের মৌজায় তাদের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে অঞ্জন সেনগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, সম্প্রতি একটি ভূমিদস্যু চক্র তাদের সম্পত্তি দখল করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেছে যা তার এবং তাদের পরিবারের জন্য মানহানিকর।
এরই প্রতিবাদে তিনি গত সোমবার এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে অঞ্জন সেন গুপ্ত বলেন, গণমাধ্যমগুলোতে হুমায়ুন বিপ্লব ও শাকিল নামে তিন ব্যক্তি তাদের সম্পর্কে যে স্বত্তরও বিবৃতির প্রদান করেছেন তা সম্পূর্ণ নিপ্যা ও ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তাদের বক্তব্যের ফলে সাধারণ মানুষের এবং গ্রামবাসীর মধ্যে আমাদের পরিবার নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং আমরা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
তিনি আরো বলেন, উল্লেখিত তিন ব্যক্তির কাউকেই আমরা কোন প্রকার ভূমি সংক্রান্ত কোনো পাওয়ার অফ এটর্নি
বা প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতা বা অনুমতি প্রদান করিনি।
তারা আমাদের দলিল সম্পত্তি বা সংশ্লিষ্ট কোন আইনগত কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত নয়।
তারা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে তাদের নামে প্রতিনিধিত্ব দলিল সম্পাদনের জন্য যে বিপুল পরিমাণ অনৈতিক লেনদেনের কথা বলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। আমরা টাকার অভাবে সাংসারিক খরচ মেটাতে রিমঝিম খাচ্ছি। তাই দ্রুত আমাদের জমি বিক্রি করে নিজেদের খরচ মেটানোর জন্য আমরা উদ্যোগ নেই। কিন্তু প্রতারক চক্রের চক্রান্তের কারণে আমাদের জমি বিক্রয় করতে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমরা বলতে চাচ্ছে যে,
আমরা সরকারি নির্ধারিত ফি ও আইনগত খরচ ব্যতীত অন্য কোথাও কোন অর্থ প্রদান করিনি।
এছাড়া উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয় যে, মিথ্যা প্রতিবেদন গুলোতে যে ধরনের প্রচারণা
করা হচ্ছে তার সাথে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই এবং কোন ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি।
আমরা কোন প্রকার আর্থিক সুবিধা গ্রহণ ছাড়াই আল-আমিনকে পাওয়ার অফ এটর্নি প্রদান করেছিলাম।
কিন্তু তিনি আমাদের জমি বিক্রয় বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তিনি বার্থ হন। এবং গরিমসি করেন। আমাদের টাকার প্রয়োজন থাকায় আমরা একাধিক বার তাকে পাওয়ার অব এটর্নি বাতিলের অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি মানেন নি
প্রতি পাত করেননি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বিষয়টি নিষ্পত্তি না করা আমরা আইনগত পরামর্শ গ্রহণ করে ৩নিধিত্ব করার বিষয়টি বাতিল করার নোটিশ প্রদান করা হয়।
এরপরেই আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী আলামিন কে প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টি নিয়ে মৌখিকভাবে কথা হয় তারপরও তিনি আমাদের সাথে কোন রকম যোগাযোগ করেন নাই। সর্বশেষ আমরা আইনজীবীদের মাধ্যমে বিষয়টি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেই। এবং পাওয়ার অফ এটর্নি আইনের মাধ্যমে বাতিল করা হয়। এর আগে প্রতিনিধিত্ব দলিল বাতিলের বিষয়ে একাধিক নোটিশ প্রদান করা হয়।
পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র ও নোটিশ সহ কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব রেজিস্টার অফিস দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদের কাছে যাই। তিনি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দলিল প্রস্তুত করেন এবং আমাদের নিয়ে সাব রেজিস্টার এর কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে সাব রেজিস্টার সকল কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে দলিল সম্পাদন করেন। তাদের প্রতিনিধিত্ব দলিল বাতিল করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া সরকারি ফি ব্যতীত কোন অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন করা হয়নি। প্রতিনিধিত্ব দলিল বাতিল হওয়ার পরেই তারা মিথ্যার প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তারা বিভিন্ন অর্থনৈতিক অনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে মনগড়া বক্তব্য দিতে থাকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ এবং নিন্দনীয়। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।
তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, আমরা সনাতন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ। বিভিন্নভাবে আমাদেরকে হুমকি-ধমকি দিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে ভূমি চক্রের সদস্যরা।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন,
হুমায়ুন বিপ্লব ও শাকিল ভূমি দস্যু চক্র সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে তাদের জমিজমা জালিয়াতির মাধ্যমে নেয়ার পাঁয়তারা করছে। তারা নামে বেনামে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জমি আত্মসাৎ এর অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে।
তাদের অন্যায় দারি পূরণ না করায় তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য সংবাদকর্মীদের দিয়ে প্রচার করে আমাদের সামাজিক মান সম্মান ক্ষুন্ন করছেন। প্রশাসনের কাছে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং মানহানিকর কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট প্রচার করে নিকট সুষ্ঠু তদন্ত ন্যায়বিচার ওব প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।