
মো.হাইউল উদ্দিন খান, গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর শহরের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে একসঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে সিটি ও জেলা প্রশাসন।
রাজবাড়ী রোড মহিলা কলেজ থেকে শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ৬০ ফুট প্রশস্ত করা, ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজদীঘিকে ঘিরে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা এবং রেলক্রসিং এলাকায় ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শুধু একটি সড়কের যানজটই কমবে না, গাজীপুর শহরের সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে নতুন রূপ পাবে নগরীর অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন ভাওয়াল রাজদীঘি।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া রাজবাড়ী রোড মহিলা কলেজ থেকে শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় সড়কের দুই পাশের জায়গা, সম্ভাব্য সম্প্রসারণ এলাকা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ করেন তারা।
পরিদর্শনকালে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি ৬০ ফুট প্রশস্ত করা হলে যানবাহন চলাচল অনেক বেশি স্বাভাবিক হবে। দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগও উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।
তিনি জানান, শহরের যোগাযোগব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে কলের বাজার থেকে ৬০ ফুট প্রশস্ত সড়ক রাজবাড়ী রাজদীঘি এলাকায় এসে যুক্ত হবে। অন্যদিকে পূবাইলের নীলেরপাড়া হয়ে একটি সড়ক মহিলা কলেজ এলাকায় রাজবাড়ী সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হানকাটা হয়ে সিলেট রুটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে।
এ ছাড়া গাজীপুর জজকোর্ট এলাকার সড়কটি ৪০ ফুট প্রশস্ত করে শ্মশানঘাট এলাকার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শওকত হোসেন সরকার আরও বলেন, “এসব সড়ক পরিকল্পিতভাবে সংযুক্ত করা গেলে শহরের যোগাযোগব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে এবং যানজট অনেকটাই কমে যাবে।”
সড়কের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজদীঘিকে ঘিরেও বড় পরিকল্পনার কথা জানান সিটি প্রশাসক। রাজদীঘির সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি সেখানে শিশু পার্কসহ বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটির নকশা ও কারিগরি দিক নিয়ে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা কাজ করছেন বলে জানান তিনি। পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শওকত হোসেন সরকার বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণ, রাজদীঘির সৌন্দর্যবর্ধন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন সমন্বিতভাবে করা গেলে গাজীপুরকে আরও পরিকল্পিত, দৃষ্টিনন্দন ও বসবাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
রেলক্রসিংয়ের দুর্ভোগ কমাতে ওভারপাস–
শহরের যানজটের অন্যতম কারণ রেলক্রসিং। এ সমস্যা সমাধানেও ওভারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসক জানান, রেলক্রসিংয়ের ওপর ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ট্রেন চলাচলের সময় সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ অপেক্ষা ও যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, গাজীপুর শহরের উন্নয়নকে আরও পরিকল্পিত ও সমন্বিত করতে সড়ক প্রশস্তকরণ, যানজট নিরসন এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ভূমি, সীমানা ও কারিগরি বিষয় যাচাই করে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এতে নাগরিকদের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি গাজীপুরের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যও সংরক্ষিত হবে।”
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা খানম বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সড়ক যোগাযোগ এবং নগর সৌন্দর্যবর্ধনকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাজবাড়ী রোড থেকে শিববাড়ী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি ভাওয়াল রাজদীঘির সৌন্দর্যবর্ধন করা হলে এলাকাটি নগরবাসী ও দর্শনার্থীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে পরিকল্পনা, কারিগরি মান এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সোহেল রানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আহমেদ হোসেন ভূঁইয়া, এবিসি জেনারেল মো. শাহরিয়ার নজির, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল বারেক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, সচিব ফিরোজ আল মামুনসহ জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক প্রশস্তকরণ, রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস ও ভাওয়াল রাজদীঘির সৌন্দর্যবর্ধন—এই তিন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গাজীপুর শহরের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের পাশাপাশি তৈরি হবে নতুন সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা। একই সঙ্গে ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নগর সৌন্দর্য বৃদ্ধির মাধ্যমে বদলে যেতে পারে গাজীপুর শহরের চেহারা।