বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্কুলে যাওয়ার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় ৫বছরের শিক্ষার্থীর মৃত্যু কুমিল্লার বুড়িচংয়ে পুলিশের অভিযানে যুবলীগ নেতা আটক…. ব্রাহ্মণপাড়ায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ বদলি হয়েও বদলাননি শিক্ষক রাকিবুল, গুরুতর অভিযোগ ‘সালিশে’ মীমাংসা নিয়ে প্রশ্ন গাজীপুরে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে অস্ত্রের মহড়া- সাংবাদিককে রামদার কোপ প্রধান শিক্ষককে বিদায় দিতে কান্নায় ভারী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ তিন কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বিমানের ত্রুটিতে রোমে যাত্রী দুর্ভোগ, প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পদ হারালেন জনসংযোগ কর্মকর্তা বোশরা ইসলাম রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশও কাজে আসেনি রাজধানীর মিরপুরের অবৈধ ভবন নির্মাণ করে অকুপেন্সী সার্টিফিকেট ছাড়াই বসবাস  লাগামহীন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত লৌহজংয়ের জনজীবন গাজীপুরে জনদুর্ভোগ কমাতে ৩ মেগা প্রকল্প 

রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশও কাজে আসেনি রাজধানীর মিরপুরের অবৈধ ভবন নির্মাণ করে অকুপেন্সী সার্টিফিকেট ছাড়াই বসবাস 

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

 

 

 

আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে ভবন ভাঙা, জরিমানা করা ও ফৌজদারি মামলা দায়েরের বিধান থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না রাজউক

 

 

 

নার্গিস রুবি: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন ছাড়াই মিরপুর হাউজিং এস্টেটে বহুতল ভবন নির্মাণ করে অকুপেন্সী সার্টিফিকেট ছাড়াই বসবাস করছেন ভবন মালিক জনাব রাশিদুল আলম গং ও তাদের ভাড়াটিয়া। ভবন নির্মাণকালিন নকশা বহির্ভূত এই নির্মাণকাজ বন্ধ করতে রাজউক একের পর এক নোটিশ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। সর্বশেষ চূড়ান্ত নোটিশে ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হলেও পরবর্তী তা কোনো কাজে আসেনি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মিটার জব্দ করতে ডেসকোকে দুই দফা চিঠি দেওয়ার পরও সংস্থাটি এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে রাজউক সূত্রে জানা গেছে।

 

রাজউকের মহাখালী জোনাল অফিসের অথরাইজড অফিসার ৩/২ মাসুক আহমেদ স্বাক্ষরিত পত্রপত্রাদি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মিরপুর হাউজিং এস্টেটের হোল্ডিং নম্বর-৯- ১০, রোড নম্বর- ১, ব্লক- ই, সেকশন- ১ নম্বর প্লটে রাজউক অনুমোদিত নকশা ব্যতীত এবং ন্যূনতম সেটব্যাক না রেখে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এর ৩(বি) ধারা এবং ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে এই নির্মাণকাজ চলমান থাকাকালিন গত ১ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুরী দাখিলের নোটিশ এবং ১৬ মার্চ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু ভবনের মালিক কোনো জবাব দাখিল না করায় ২১ আগস্ট চূড়ান্ত নোটিশ জারি করা হয়। ওই নোটিশে বলা হয়, পত্র জারির তারিখ হতে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ অবকাঠামো ভেঙে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় রাজউক নিজেই ভেঙে ফেলবে এবং সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী ভাঙার সব খরচ মালিকের কাছ থেকে আদায় করা হবে।

 

চূড়ান্ত নোটিশের সঙ্গে একই দিনে রাজউক ডেসকো, ঢাকা ওয়াসা, তিতাস গ্যাস এবং শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনুলিপি প্রেরণ করে ভবনটিতে কোনো ধরনের ইউটিলিটি সেবা প্রদান না করার অনুরোধ জানায়। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ১৯ অনুযায়ী উক্ত ইমারতে কোনরূপ সেবা প্রদান না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অনুরোধ করা হয়।

 

এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে ডেসকোর বিলম্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত ২২ জুন রাজউকের অথরাইজড অফিসার ডেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী, শাহ আলী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, মিরপুর বরাবর পত্র প্রেরণ করে মিটার নম্বর ০৩১১০০২৫৭০১ মিটারটি জব্দসহ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অনুরোধ করেন। পত্রে উল্লেখ করা হয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৭ এপ্রিল ২০২৩ তারিখের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজউকের আওতাধীন এলাকায় নকশা ব্যত্যয় ও অনুমোদনবিহীন অবৈধ ভবন রোধে ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজউক নির্ধারিত ফরম্যাটে ইউটিলিটি সেবা প্রদানকারী সংস্থার নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর পত্র প্রেরণ করলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তাৎক্ষণিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে।

 

কিন্তু ডেসকো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত ৭ জুলাই রাজউকের পরিচালক (জোন ৩ ), মহাখালী জোনাল অফিস থেকে তাগিদপত্র পাঠানো হয়। ওই তাগিদপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ নভেম্বর ২০২৩ সালেও একই বিষয়ে ডেসকোকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে অদ্যাবধি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং মিটার জব্দ না করায় নির্মাণকারী অবৈধভাবে ইমারত নির্মাণের সুযোগ পাচ্ছেন। তাগিদপত্রে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ১১(৪) অনুযায়ী পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মিটার জব্দের অনুরোধ জানানো হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজউকের তাগিদপত্রের পরও ওই ভবনে নির্মাণসামগ্রী ও শ্রমিকদের আনাগোনা চলমান রয়েছে। অবৈধ ভবন নির্মাণ বন্ধে রাজউকের আইনানুগ পদক্ষেপ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ইউটিলিটি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা ও বিলম্বিত পদক্ষেপ নির্মাণকাজকে বেগবান করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, অবৈধ ভবন নির্মাণ রোধে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সব সংস্থাকে একযোগে কাজ করতে হবে। কোনো একটি সংস্থার বিলম্ব পুরো প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশের পরবর্তী ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও কেন অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এবং ডেসকো কেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে না, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, রাজধানীতে নকশা বহির্ভূত অবৈধ ভবন নির্মাণের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু মিরপুর এলাকাতেই শতাধিক অবৈধ ভবন রয়েছে যেগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অবৈধ ভবন ভাঙার সংখ্যা নগণ্য হওয়ায় নির্মাণকারীরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজউক, ডেসকো, ওয়াসা, তিতাস গ্যাস এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া অবৈধ ভবন নির্মাণ রোধ করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে অবৈধ ভবনের মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি এবং জরিমানা আদায় নিশ্চিত করতে হবে।

 

রাজউক সূত্র আরও জানায়, চূড়ান্ত নোটিশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলে এবং মালিক কর্তৃক অবৈধ অংশ স্বেচ্ছায় ভাঙা না হলে রাজউক নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ওই প্রক্রিয়ায় সময় লাগলেও ইমারত নির্মাণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী খরচ আদায়ের বিধান থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। কারণ অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই ভাঙার খরচ আদায়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

 

মিরপুর হাউজিং এস্টেটের বাসিন্দারা জানান, ওই ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালীন এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবনটি সঠিক নকশা অনুযায়ী হচ্ছে না বলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তারা রাজউকের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উল্লেখ্য, রাজউকের পত্রাবলিতে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে যে ভবনটি রাজউক অনুমোদিত নকশা ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে এবং ন্যূনতম সেটব্যাকও রাখা হয়নি। যা নগর পরিকল্পনার জন্য হুমকিস্বরূপ। একই সঙ্গে ডেসকোর কাছে পাঠানো তাগিদপত্রে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত এই অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করা না হলে রাজধানীর পরিকল্পিত উন্নয়ন ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

 

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভবন মালিক কিংবা তাদের পক্ষে থেকে কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews