বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
টাঙ্গাইলে বাঁশের পণ্যে জীবিকা নির্ভর চাঁনমিয়ার সালথার ইউসুফদিয়ায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান এক ফ্লাইটের ৭ যাত্রীর ব্যাগে বিদেশি মদ, শাহজালালে আটক ৩৮.৫ লিটার খানসামায় প্রাথমিক শিক্ষা গিলে খাচ্ছে হুমায়ুন কবির পটুয়াখালীতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সিভিল সোসাইটির অ্যাকশন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত  ‎দক্ষিণখানে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ শীর্ষ ৪ সন্ত্রাসী গ্রেফতার ‎ তবকপুর ভূমি অফিসে ঘুষ লেনদেন, দরকষাকষির ভিডিও প্রকাশ্যে বিমানবন্দরের সামনে সেন্টার পয়েন্ট শপিং মলের ফুডকোর্টে আগুন মশা নিধনে ইউএসএ’র ‘বিটিআই’ ব্যবহারে গাসিকের জোরদার কার্যক্রম গজারিয়া এমপি’র বাড়ি চিনেননা বৃদ্ধ, দেখিয়ে দেয়ার কথা বলে টাকা-মোবাইল ছিনতাই করে যুবক

টাঙ্গাইলে বাঁশের পণ্যে জীবিকা নির্ভর চাঁনমিয়ার

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

 

মোঃ আনিসুর রহমান শেলী :

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হাটে বাঁশের পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন চাঁনমিয়া।এক সময় তিনি একজন সুস্থ সবল কর্মঠ শ্রমিক হলেও সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে এখন এটাই তার জীবিকার একমাত্র উৎস।এ এলাকার অর্ধশতাধিক পরিবার বাঁশ শিল্পের সাথে জড়িত। তারা বাঁশ থেকে মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে থাকেন। বাঁশের পণ্য যেমন-ডুলি, মাছ মারার চাই, কুলা, চালুনি, খাঁচা ও ঝাড়ু তৈরি করেই চলে তাদের জীবন জীবিকা। আর এসব তৈরি বাঁশে পণ্য বাড়ি বাড়ি থেকে কিনে ধনবাড়ীসহ বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করে সংসার চলে চাঁন মিয়ার। চাঁনমিয়া ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ভাইঘাট গ্রামের স্যান্ডালপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, ১০ বছর ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে বাঁশের পণ্য পাইকারি কিনে এনে বাজারে বিক্রি করেন। তিনি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বিক্রি করে তা থেকে ১ হাজার থেকে১৫ শত টাকা লাভ করেন তাই দিয়ে চলে তার তিনজনের সংসার। তিনি বলেন, এখন বাজারে এসব পণ্যের বিক্রি ভালো চলছে না।’চান মিয়া ট্রাক্টর এক্সিডেন্ট করে ডান পা ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে একমাত্র এই ব্যবসাই তার আয়ের উৎস। ১ এক কন্যা আর তার স্ত্রীকে নিয়েই তার সংসার। তিনি বলেন সরকারি সহায়তা পেলে আমি সচ্ছলভাবে চলতে পারব সরকারের ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন চান মিয়া। ধনবাড়ী বাজারে সপ্তাহে এক দিন-সোমবার বাঁশের পণ্য কেনাবেচা হয়। এখানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাঁশের পণ্য নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। শীতে গ্রামীণ এলাকাগুলোয় এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকে। বর্ষায় মাছ মারার ঘোনি বা চাই এর ব্যাপক চাহিদা থাকে। তবে ক্রেতারা মনে করেন, এসব পণ্যের সরবরাহ কমে যাচ্ছে। এমনকি একসময় বাঁশের পণ্য বাজারে পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। ক্রেতা আজাহার আলী(৪০) জানান, তার বাড়ির ধানের ডুলি ভেঙে গেছে, তাই তিনি নতুন ডুলি ও মাটি কাটার ডালি কিনতে এসেছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা বাঁশের পণ্য ব্যবহার করে অভ্যস্ত। কিন্তু এখন প্লাস্টিকের পণ্য বেশি হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে বাঁশের পণ্য একদিন হারিয়ে যাবে। বাঁশের পণ্য বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়। মাটি কাটার ডালি ৭০ থেকে ৯০ টাকা, বড় ডালি ৮০ থেকে ১৫০, ঝাড়ু ৪০ থেকে ৫০, কুলা ৮০ থেকে ১৫০, চালোন ৬০ থেকে ৭০, মুরগির টোপা ১২০ থেকে ১৫০, কবুতরের খাঁচা ১২০ থেকে ১৮০, মাছ ধরার পলো ৩০০ থেকে ৩৫০ এবং মাছ ধরার ডাইর ২০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোঃ আকবর হোসেন(৬৫) নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘আমি বাঁশের পণ্য কিনে গ্রামে বিক্রি করি। প্রতি হাটে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার পণ্য কিনি। এরপর তা বিক্রি করে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা লাভ হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্লাস্টিকের পণ্যের কারণে বাঁশের পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। তবে আমরা এখনো এ ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল দিন খুব কষ্টে কাটছে। বাঁশের পণ্য তৈরির কারিগর হযরত আলী(৪৮) বলেন, একসময় গ্রামে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হতো। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এ কাজে যুক্ত ছিলেন।

তবে বর্তমানে মূল্য বৃদ্ধি ও বাজারে বাঁশের চাহিদা কমে যাওয়ায় আমাদের পণ্য বিক্রি করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ শিল্পের মূল উপকরণ বাঁশের দামও বেড়ে গেছে। এর ফলে অনেক গ্রামীণ কারিগর এখন অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। একসময় যারা এ শিল্পে যুক্ত ছিলেন, তারা বর্তমানে বেকার হয়ে পড়ছেন। ধনবাড়ী হাটের ইজারাদার রশিদ বলেন, এখন বাঁশের পণ্যের চাহিদা আগের মতো নেই। প্লাস্টিকের পণ্যের কারণে এসব পণ্য বাজারে কম বিক্রি হচ্ছে। আগে এখানে ২০ থেকে ৩০টি দোকান বসত, এখন সেটা কমে ৬-৭টি হয়ে গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় কারিগর ও ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। প্লাস্টিক ও অন্যান্য আধুনিক পণ্যের আগমনে বাঁশের পণ্যের কদর কমে গেছে। গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এ শিল্পকে বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে উঠেছে। বাঁশশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো আশা করছে, যদি সরকারি বা স্থানীয় উদ্যোগে তাদের এ শিল্পকে সহায়তা করা হয়। তবে হয়তো তারা তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারবে। তবে আগামী দিনগুলোতে এ শিল্পের ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে এখনো শঙ্কায় এ পেশার সাথে সংশ্লিষ্টরা ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews