
আঃ মান্নান (স্টাফ রিপোর্টার) : খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন দেশ পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে নিজেকে সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে, যেন তারা ভবিষ্যতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দিতেও সক্ষম হয়। প্রত্যেক মানুষের ভেতরেই কোনো না কোনো প্রতিভা সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। সেই প্রতিভাকে জাগ্রত করা, নিজের যোগ্যতাকে বিকশিত করা এবং সমাজ ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখার অন্যতম মাধ্যম হলো শিক্ষা। শুধু ভালো ফলাফল কিংবা সার্টিফিকেট অর্জনই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানো এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করাই প্রকৃত শিক্ষার সার্থকতা। সফলতা তখনই অর্থবহ হয়, যখন শিক্ষার আলো সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, প্রত্যেকের জীবনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে। সেই লক্ষ্য অর্জনে নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ের সঠিক ব্যবহার, সততা ও অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। নিজের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে খুঁজে বের করে তার বিকাশ ঘটাতে হবে। ভবিষ্যতে শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা কিংবা রাষ্ট্রনায়ক যা ই হোক না কেন, প্রত্যেককে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে মেয়েদের মাধ্যমিক পর্যায়ে অবৈতনিক শিক্ষা ও ছাত্রী উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নারীশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে আধুনিক, মানসম্মত, বৈষম্যহীন ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, কারিগরি জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। বিএনপির শিক্ষা পরিকল্পনার লক্ষ্যও শিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া। কোনো শিক্ষার্থী যেন শুধু অর্থের অভাবে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়ে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। সার্টিফিকেটের পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিকতা ও নৈতিকতার মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ, শিক্ষিত হওয়ার অর্থ শুধু নিজের উন্নতি নয় বরং সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন এবং দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখা। আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে আজকের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নয়, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বপ্ন দেখতে হবে। প্রকৃত শিক্ষা মানুষের ভেতরের প্রতিভাকে জাগ্রত করে এবং সেই প্রতিভাকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর পথ দেখায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি শিক্ষার্থী, জাগ্রত হোক প্রতিটি সুপ্ত প্রতিভা এমন শিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্মই গড়ে তুলবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
তিনি আজ ১৪-ই অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের সৈয়দ আরশাদ আলী এন্ড ছবুরুননেছা গার্লস কলেজের আয়োজনে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেনির ছাত্রীদের নবীন বরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন অত্র কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ডাঃ সৈয়দ কামরুল ইসলাম, রূপসা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আঃ রশিদ,জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু,
যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হক সজল,উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, তেরোখাদা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক চৌধুরি কওসার আলী, রূপসা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ এসএম আমজাদ হোসেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তুহিন, জেলা কৃষকদলের সাধারন সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ, জেলা তাঁতিদলের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লিটন তালুকদার, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আবু জাফর, জেলা বিএনপির সদস্য আনিসুজ্জামান আনিস, আরিফুর রহমান আরিফ, মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম,উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র, জেলা মহিলাদল নেত্রী শাহানাজ ইসলাম, বিএনপি নেতা শেখ শফিকুল ইসলাম, মহিউদ্দিন মিন্টু,মিকাইল বিশ্বাস, সহকারি অধ্যাপক রহিমা খাতুন রুমা, প্রমূখ।