
মো.হাইউল উদ্দিন খান, গাজীপুর প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম থেকে কাজের প্রলোভনে ডেকে এনে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় রাজমিস্ত্রি নাঈম মাঝিকে (২৮)। হাত-পা বেঁধে চোখ, কপাল ও বুকে আঘাত, একটি আঙুল কেটে ফেলা এবং বুকে ও পুরুষাঙ্গে তামার তার পেঁচিয়ে পাশবিক নির্যাতনের পর মরদেহ গাজীপুরের একটি ধানখেতে ফেলে রাখা হয়।
দেশজুড়ে আলোচিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২১ মাস পর চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআই গাজীপুর জেলা বুধবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি হিসেবে এজাহারবহির্ভূত অভিযুক্ত মো. নাজমুল হোসেনকে (২০) ঢাকা জেলার আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আদালতে হাজির করার পর তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পিবিআই জানায়, ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর বিকেলে কাজের কথা বলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানা এলাকার বাসা থেকে বের হন নাঈম মাঝি। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। ৫ দিন পর, ১৫ অক্টোবর গাজীপুর মহানগরের সদর থানার সামান্তপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে হাত-পা বাঁধা ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্তে উঠে এসেছে, ১০ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে নাঈমকে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে নাইলনের রশি দিয়ে তার হাত-পা বাঁধা হয়। এরপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে অপরাধের আলামত গোপন ও তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে মরদেহটি ধানখেতে ফেলে রাখা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জামিল উদ্দিন রাশেদ জানান, আগে গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি বিশ্লেষণ ও পিবিআইয়ের নিবিড় তদন্তে নাজমুলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জামিল উদ্দিন রাশেদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় গাজীপুর সদর থানায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার তদন্তভার পরে পিবিআই গ্রহণ করেছিল।
তবে কী কারণে নাঈমকে হত্যা করা হয়েছিল, কীভাবে তাকে চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুরে আনা হয় ও হত্যাকাণ্ডে মোট কতজন অংশ নিয়েছিল,এসব বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানায়নি পিবিআই। সংস্থাটি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।