
মো.হাইউল উদ্দিন খান, গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত ‘পিচ্চি রাজা’ ওরফে রাজা পালানোর ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই), প্রিজন ভ্যানের চালক ও পিচ্চি রাজার বোনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যাননি; বরং প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে তাকে বের করে একটি প্রাইভেটকারে তুলে দিয়ে পালাতে সহায়তা করা হয়।
সোমবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পুলিশের এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন ও পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা।
জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, পিচ্চি রাজা শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে পালিয়ে যাননি। প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে তাকে বের করে একটি প্রাইভেটকারে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার জেলা জজ আদালত থেকে ২৯ জন আসামিকে নিয়ে একটি প্রিজন ভ্যান কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে ভ্যানটি থামানো হয়। তারপর ভ্যান থেকে নামিয়ে পিচ্চি রাজাকে অপেক্ষমাণ প্রাইভেট কারে তুলে দেন।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় প্রিজন ভ্যানের ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস চালকের কাছ থেকে চাবি নেন। পরে হাজতি পিচ্চি রাজা ও খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে বের করা হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, প্রবীর কুমার নিজেই ভ্যানের তালা খুলে পিচ্চি রাজাকে বের করে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে তুলে দেন।
পুলিশের দাবি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য আড়াল করতে পরবর্তী সময়ে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ভিন্ন একটি বর্ণনা দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়।
তদন্তে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন ও পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিএমপি কমিশনার জানান, পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পলাতক পিচ্চি রাজা এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, পুলিশের তদন্তে উঠে আসা এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।