মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মির্জাগঞ্জে ভূমিদস্যুদের হামলায় সংবাদকর্মী ও ব্যবসায়ী গুরুতর জখম: প্রধান আসামি কুদ্দুস মোল্লা জেলহাজতে গজারিয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ময়লার স্তুপ থেকে নবজাতক উদ্ধার বোরিতে ক্ষমতার করিডরে প্রশাসনিক ধাঁধা: নতুন ডিজির প্রথম কলমেই চাকরিচ্যুতি!  তানোরে সিন্ডিকেট চক্রের ধান  বাণিজ্য! জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব  কালিহাতীর তল্লাই বিলে অভিযান, ১৩শ মিটার চায়না জাল জব্দ ও ধ্বংস সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষায় ‘সেতু’ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি ‎ হাসপাতালের দালাল হাসানের কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ সাধারণ রোগী এবং এলাকাবাসী সতর্ক অবস্থানে প্রশাসন। বিতর্কের মুখে দায়িত্ব ছাড়লেন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান।  টঙ্গীতে অভিযান;বিপুল পরিমাণ মাদকসহ নগদ অর্থ, মোবাইল উদ্ধার, গ্রেপ্তার- ৩

তানোরে সিন্ডিকেট চক্রের ধান  বাণিজ্য!

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

 

 

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ জাকির হোসেন-টুটুল।

 

রাজশাহীর তানোরে রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের ভাগাভাগিতে সরকার কর্তৃক ধার্যকৃত ধানেের মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত কৃষক, বলে অভিযোগ উঠেছে। এবছর অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ অভিযানে অংশগ্রহণ নেই প্রকৃত কৃষকের। কৃষকদের নামে ধান দিচ্ছেন রাজনৈতিক পরিচয়ের একশ্রেণির চালকল মালিক।

 

খাদ্যবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারির নেপথ্যে মদদে কৃষকের কার্ড ভাড়া নিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের অগোচরে তারা ধান দিচ্ছেন। আবার খাদ্য গুদাম থেকে সরকারি বস্তা বাইরে দেয়ার কোনো নিয়ম না থাকলেও, তানোরে টন প্রতি ২ হাজার টাকা কমিশন নিয়ে বস্তা সিন্ডিকেট চক্রের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে বস্তা।

 

এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, খাদ্য-গুদামে সরাসরি কৃষকদের ধান বিক্রয়ের নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না খাদ্য গুদাম কর্মকর্তারা। কৃষকরা ধান বিক্রি করতে গেলে কর্মকর্তারা নানা অজুহাতে ধান ফেরত দিয়ে দেয়। অথচ স্থানীয় ধান-চাল ব্যবসায়ীরা হাট বাজার থেকে একই ধান ৯০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা মণ দরে ক্রয় করে এনে ১৪৪০ টাকা মণ দরে খাদ্য গুদামে বিক্রি করছে। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী কার্ডধারী কৃষকের উপস্থিতিতে ধান ক্রয় করার কথা। তানোরে রাজনৈতিক তিন সদস্যর সিন্ডিকেট শত, শত কৃষকের কার্ড দিয়ে গুদামে ধান দেওয়া হচ্ছে। আবার যারা ধান দিবে না, যাদের ধান নেই তালিকায় সেই সব কৃষকের নাম রয়েছে। অধিকাংশক্ষেত্রে শর্ত পুরুণ না করেই এসব ধান নেয়া হচ্ছে। সরেজমিন সিসি ক্যামেরা ও কৃষকের মুঠোফোন নম্বর যাচাই এবং তাদের সঙ্গে কথা বললে ও গুদামে কেনা ধানের আর্দ্রতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।

 

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে; বাজারে মোটা ধানের দাম ৯শত টাকা থেকে এক হাজার টাকা। আর সরকার কিনছে এক হাজার ৪৪০ টাকা মণ। এলাকার কৃষকগণ প্রতি মণে হারাচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

খিদ্য গুদাম কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজসে পাবনা, নাটোর ও নওগাঁর বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটা ধান এনে গুদামে দেয়া হচ্ছে। ফলে সাধারণ কৃষকদের মাঝে সরকারের ভাবমূতি নষ্ট হচ্ছে। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকার উৎপাদিত ধান সরাসরি কৃষকের কাছে থেকে ক্রয় করার কথা।

 

জানা গেছে, তানোরে চলতি বছরের ১৯-মে (মঙ্গলবার) ধান-ক্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৪৯ টাকা কেজি দরে অটো ও  হাস্কিং মিল থেকে ৪০৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৩০০ মেট্রিক টন গম এবং ৩৬ টাকা কেজী দরে এক হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। আগামী ৩১-আগস্ট পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।

 

স্থানীয়রা বলছে, দুঃখজনক হলেও সত্যি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী মতাদর্শীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির কিছু নেতা এসব দুর্নীতি করছে। তারা নিজেদের পছন্দের ইউনিয়ন (ইউপি) ভাগ করে নিয়ে নিজেদের বিশ্বস্ত লোক দিয়ে, ঐসব ইউনিয়নের কৃষকদের ভোটার আইডি সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুত করিয়েছেন। কৃষকদের সঙ্গে যে প্রতারণা করেছেন তা খুবই দুঃখজনক। তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ে যেসব কৃষক বঞ্চিত হয়েছেন তাদের তালিকা করে ধান দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল, কিন্তু কিছু নেতার লোভের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

 

এবিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা বিএনপির হাইকমান্ডের  নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কৃষকদের উন্নয়নের জন্য ধানের সন্তোষজনক মূল্য দিয়েছেন অথচ তা লুটে নিচ্ছেন একশ্রেণীর দলীয় নেতা। এর ফলে দলের সুনাম নষ্ট হচ্ছে, এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা উচিৎ বলে তারা মন্তব্য করেছেন।

 

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ জানান, নিয়মের মধ্যে থেকেই ধান ক্রয় শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই পুরোদমে ক্রয় কার্যক্রম চলবে। এখানে নেতাদের প্রভাব বা ভাগাভাগি হয়নি, প্রকৃত কৃষকদের নামেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। যারা ধান দেবেন না, তাদের নাম তালিকায় কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

এ বিষয়ে কোনো সদোত্তর দিতে পারেননি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিএফ) পারভিন। তিনি বলেন, এই চেয়ারে বসে থাকলে আপনিও অনেক কিছু করতে পারবেন না।

 

এবিষয়ে তানোর সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এলএসডি) আফরোজা খাতুন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৪৯ টাকা কেজী দরে অটো ও  হাস্কিং মিল থেকে ৪০৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৩০০ মেট্রিক টন গম এবং ৩৬ টাকা কেজী দরে এক হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। আগামী ৩১+আগস্ট পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।

 

এদিকে উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষকের সঙ্গে সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানের বিষয়ে কথা বলা হলে, তাদের প্রায় সবারই বক্তব্য ছিল কাছাকাছি, সরকার ধান ক্রয় করে বলে শুনেছি। কিন্তু কীভাবে কখন ধান নেয়, সেই বিষয়ে ধারণা নেই তাদের। এ বিষয়ে কোনো প্রচার চোখে পড়েনি তাদের। বেশিরভাগ কৃষক জানেন না, সরকার কত টাকা মূল্যে

ধান ক্রয় করছে। সরকারি গুদামে কতটুকু পর্যন্ত ধান দেওয়ার অধিকার রয়েছে একজন কৃষকের!

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews