
মোঃগোলাম রাব্বী,স্টাফ রিপোর্টার:- পটুয়াখালীতে যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে নিমর্মভাবে মায়ধর করে হত্যা মামলার ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসমীদের গ্রেফতার না করার প্রতিবাদে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে ভিকটিমের স্বজনরাসহ চরজৈনকাঠি এলাকার শত শত নারী- পুরুষ।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর ১২ টায় চরজৈনকাঠি গ্রামের শত শত নারী- পুরুষ পটুয়াখালী জেলা শহরের ঝাউতলায় সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ সময় গৃহবধূ তানিয়া হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী যৌতুকলোভী স্বামী কামাল খানকেসহ অন্যান্য আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবীতে বক্তব্য রাখেন ভিকটিমের মেয়ে ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী বিথী, মা হনুফ বেগম, খালা রেহেনা বেগম, ফুফু সাহেরা বেগম, ফুফাতো ভাই নাসির উদ্দিন, খালাতো ভাই মো. ইব্রাহিম, এলাকাবাসী মো. ফয়েজ মিয়াসহ আরও অনেকে। ভিকটিমের বাবা অলি মুন্সী বিক্ষোভ সমাবেশকালে মেয়ের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পটুয়াখালী সদর থানায় ভিকটিম তানিয়ার বাবা অলি মুন্সী কর্তৃক দায়ের করা মামলা সূত্রে জানাগেছে, লোহালিয়া ইউনিয়নের উত্তর লোহালিয়া গ্রামের মো. কামাল খান এর সাথে ৬ মাস পূর্বে ইসলামী শরিয়াত মোতাবেক মোসা. তানিয়া বেগম(৩০) এর বিবাহ হয়। এ বিবাহের পর থেকেই কামাল খান তানিয়া বেগমের বাবা অলি মুন্সীর কাছে যৌতুক হিসেবে ৩ লক্ষ টাকা দাবী করে আসছিল। এ যৌতুক টাকার জন্য স্বামী কামাল খান স্ত্রী তানিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল।
ঘটনারদিন ১৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১০.০০ টা থেকে ১৫ জুলাই সকাল ৭.০০ ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময় স্বামী কামাল খান, কামাল খানের আগের স্ত্রীর দুই মেয়ে লিজা খান (২২) ও লিমা খান(২০) এবং কামাল খানের মা আম্বিয়া (৬২) গং অমানবিকভাবে মারধর করে তানিয়াকে ওড়নাদিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে বাড়ির পুকুরপাড়ে কাঠালগাছে ঝুলিয়ে রেখে মৃত্যু নিশ্চিত করে কামাল খান নিজেই তানিয়ার খালাতো বোন মারজানাকে জানায়। এ খবরে তানিয়ার বাবা অলি মুন্সিসহ কয়েকজন কামাল খানের বাড়িতে দেখে তানিয়ার লাশ গাছে ঝুলে আছে। বাড়িতে কোন লোক নাই। পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌছে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করে। এ হত্যা ঘটনায় তানিয়ার বাবা বাদী হয়ে স্বামী কামাল খানকে ১ নং আসামী করে কামালের আগের ঘরের দুই মেয়ে লিজা খান ও লিমা খান এবং ঘাতক কামালের মা আম্বিয়া বেগমকে আসামী করে সদর থানায় মামলা করেন। মামলা নং ৩৮, তারিখ: ১৬.০৭.২৬ ইং। ভিকটিম স্বজনদের দাবী মামলার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ অজ্ঞাত কারনে আসামীদের গ্রেফতার করছে না।
সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, তানিয়ার লাশের ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেতে সময় লাগবে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলমান আছে।