
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
বন্যার আগাম সতর্কবার্তা দ্রুত ও সহজ উপায়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সতর্কবার্তা পাওয়ার পর করণীয় সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে কুড়িগ্রামের উলিপুরে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘অবকাঠামোগত দক্ষতা উন্নয়ন ও তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি’ বা ‘প্রভাতী’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে আঞ্চলিক বহুঝুঁকি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা (RIMES) এবং অর্থায়ন করছে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (IFAD)।
সভায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খন্দকার মো. ফিজানুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রেবা বেগম, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা পারভীন রিফা, উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে শুধু বন্যা শুরু হওয়ার পর প্রস্তুতি নিলে হবে না; ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সময়মতো নির্ভরযোগ্য আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো জরুরি। সতর্কবার্তা পাওয়ার পর মানুষ যাতে নিজের জীবন, পরিবার, গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় সম্পদ রক্ষায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, নদ-নদীবেষ্টিত ও বন্যাপ্রবণ উলিপুরে আগাম তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, কৃষি, প্রাণিসম্পদ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছানো গেলে বন্যাজনিত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সভায় বন্যার পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কবার্তা কোথা থেকে এবং কীভাবে পাওয়া যাবে, সতর্কবার্তার বিভিন্ন পর্যায়ের অর্থ, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর করণীয় এবং স্থানীয়ভাবে তা দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।