মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালিহাতীর তল্লাই বিলে অভিযান, ১৩শ মিটার চায়না জাল জব্দ ও ধ্বংস সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষায় ‘সেতু’ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি ‎ হাসপাতালের দালাল হাসানের কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ সাধারণ রোগী এবং এলাকাবাসী সতর্ক অবস্থানে প্রশাসন। বিতর্কের মুখে দায়িত্ব ছাড়লেন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান।  টঙ্গীতে অভিযান;বিপুল পরিমাণ মাদকসহ নগদ অর্থ, মোবাইল উদ্ধার, গ্রেপ্তার- ৩ গাজীপুর সদর মেট্রো থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। কালিহাতীর কৃতী সন্তান মনিরুজ্জামান মিঞা ঢাকা বিভাগের নতুন বিভাগীয় কমিশনার যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিখোঁজ শিক্ষাই জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি।ফজলুল হক মিলন রূপসায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু।

হাসপাতালের দালাল হাসানের কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ সাধারণ রোগী এবং এলাকাবাসী

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

 

‎নিজস্ব প্রতিবেদক

কথায় আছে “কয়লা ধুইলে মরে যায় না”। তেমনি এক দালালের গল্প বলবো দ্বিতীয় পর্বে প্রাইভেট হাসপাতাল জুড়ে দালাল সাম্রাজ্যের আধিপত্য বেড়েই চলছে। রোগীকে জিম্মি করা, টেস্ট বাণিজ্য সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ছিনিয়ে নেওয়া এ যেন হাসান সিন্ডিকেটের নিত্য নৈমিতিক ব্যাপার।এছাড়াও রয়েছে হাসান পরিবারের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। দিন দিন অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এবং প্রতিবেশীরাও।একদিকে বড় ছুরি নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অন্যদিকে দালালের মাধ্যমে রোগীদের চরম হয়রানি করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে দিন দিন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেই যাচ্ছে।

 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সক্রিয় একটি কথিত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে রোগীদের হয়রানি, প্রতারণা ও চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসান নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে পরিচালিত এই চক্র রোগী ও তাদের স্বজনদের ভুল তথ্য ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

 

স্থানীয় সূত্র ও একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, হাসান অতীতে বিভিন্ন হাসপাতালে মার্কেটিং-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের কারণে চাকরি হারানোর পর তিনি একটি দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। বর্তমানে ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী সংগ্রহ করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “হাসান সিন্ডিকেটের কারণে আমার এক রোগীর জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

 

অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের সদস্যরা কখনো নিজেদের হাসপাতালের মালিক, আবার কখনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে রোগীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা রোগীদের রাজধানীর মিরপুর এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

ভুক্তভোগী রোগীর স্বজন ফয়সাল আহমেদ জানান, ফরিদপুর থেকে গুরুতর অসুস্থ এক রোগীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে হাসান নামের এক ব্যক্তি উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসার নামে প্রায় দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

ফয়সাল আহমেদের অভিযোগ, নির্ধারিত অর্থ দিতে বিলম্ব হওয়ায় রোগীর স্বজনদের চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় এবং চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায়, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না।

 

তিনি আরও জানান, রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসা গ্রহণের পর রোগী সংকটমুক্ত হন। স্বজনদের দাবি, আর কিছু সময় বিলম্ব হলে রোগীর জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারত।

 

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগী ও স্বজনের অভিযোগ, এ ধরনের দালাল চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

 

সচেতন মহল মনে করছে, হাসপাতালকেন্দ্রিক দালাল চক্রের কার্যক্রম বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews