
মোঃ আনিসুর রহমান শেলী :
যমুনার প্রবল স্রোতে ভাঙনে টাঙ্গাইল তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়েছে । এদিকে মহাসড়কের একাধিক অংশ ভাঙনের মুখে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।
ইতিমধ্যে সড়কের একাংশ ধ্বসে পড়েছে। ভাঙনের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। অপরদিকে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জানা যায় টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কটি গত রাত থেকে যমুনা নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙ্গনের মুখে পড়ে। যার ফলে সকাল থেকে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেককে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন ব্যয় ।
স্থানীয়রা জানান, গত রাত থেকে তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কটি যমুনা নদীর ভয়াল আগ্রাসনে ঝুঁকিতে পড়ে। এতে তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা যার যার মত করে বাশ অথবা গাছ কেটে স্রোতে আঘাত করে ভাঙ্গন ঠেকাতে চেষ্টা করেন ।
এর প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের দাবি নদীর শাসন এর জন্য প্রতিবছরই জিও ব্যাগ ফেলা হয়। তাতে কোন নদী শাসন হচ্ছে না। যার ফলে স্থায়ীভাবে যমুনা নদীশাসন করতে হলে স্থায়ী বাধ নির্মাণ করতে হবে।
আব্দুর রশিদ জানান, ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় সকাল থেকে জিও ব্যাগ ফেলতে ব্যস্ত শ্রমিকরা।তবে আমরা স্থানীয়রা মিলে গতরাতে নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। তার ভাষ্য যেটা করেছি সেটা শুধু সাময়িক উদ্যোগের জন্য। তিনি মনে করেন এই নদীর তীর রক্ষার্থে স্থায়ী বাধ নির্মাণ না হলে জিও ব্যাগ কোন কাজে আসবে না। প্রতিবছর বন্যার সময় এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি সংকটে পড়ে। এই অঞ্চলিক মহাসড়ক গত বছরও কয়েকটি অংশে একই অবস্থা হয়েছিল।
স্থায়ী বাসিন্দা হালিম তালুকদার জানান, যমুনা নদী বেশ কয়েকদিন ধরেই ভয়াল আগ্রাসীন হয়ে উঠেছে। টাঙ্গাইল তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মহাসড়কে মারাত্মকভাবে আঘাত করলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন ভুয়াপুর গোপালপুর উপজেলা।
যার ফলে এই এলাকায় মাননীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ইতিমধ্যেই পরিদর্শন করে গেছেন। এবং তিনি কঠিন নির্দেশনা দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে।
স্থানীয় দোকানদার নুরই আলম জানান, তারাকান্দি মহাসড়কে গোপালপুরে শাখারিয়া এলাকায় নলিন বাজারের উত্তরে স্লাইসগেটের দক্ষিণ পাশে ব্লক বসানো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধে বেশ কয়েকটি অংশে যমুনা নদীর তীব্র স্রোত আঘাত করে। যার ফলে সেখানে ভাঙন শুরু হয়। সেই ভাঙ্গনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার সকল মানুষ মিলেমিশে ভাঙ্গন প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। স্থানীয়রা মনে করেন এই বাধ ভেঙ্গে গেলে মুহূর্তের মধ্যেই গোপালপুরের শাখারিয়া এলাকার সহ বেশ কিছু উপজেলায় মুহূর্তের মধ্যেই বিস্তীর্ণ জনপথ প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি ফসলে জমি যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা থাকে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন জানান স্থানীয়দের কাছে সংবাদ পেয়ে আমরা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করি। তাৎক্ষনিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা হচ্ছে এবং শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী বাধের যে সব জায়গা সংস্কার করা দরকার সেগুলো সংস্কার করলেই সড়ক নিরাপদ থাকবে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল মোর্শেদ জানান,ভুয়াপুর তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কটির ব্যাপারে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।
গতকাল স্থানীয় সংসদ সদস্য টাঙ্গাইল-২ (ভুয়াপুর- গোপালপুরের) আব্দুস সালাম পিন্টু সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এছাড়াও তিনি আজকেও এই মহাসড়কে পরিদর্শন করেন। তিন আরো জানান যেহেতু টাঙ্গাইল ভুয়াপুর তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষিতে সড়কটি বন্ধ থাকলেও বিকল্প রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করছে। এছাড়াও মানুষের সাময়িক ভোগান্তি হলেও যাতে দ্রুত ভোগান্তি লাঘব করা যায় সে ব্যাপারে আমরা নজরদারি করছি।