
সাইদ গাজী, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথায় বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ছে নদী, খাল, বিল ও বাওরে পানি এবং দেশীয় প্রজাতির নানা রকম মাছ। এখন দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন সময় হওয়াতে কিছু অসাধু মৎস্য শিকারী নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে এসব ডিমওয়ালা মা মাছ ও রেনু পোনা সহ ছোট পোনা মাছ শিকার করছে। এর ফলে হুমকিতে রয়েছে দেশীয় প্রজাতির নানা রকম মাছ। এছাড়াও নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করার ফলে নানা রকম জলজ প্রাণী বড় ধরণের হুমকির মুখে রয়েছে। এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ধ্বংস হয়ে যাবে দেশীয় প্রজাতির নানা রমম মাছ ও জলজ প্রাণী।
উপজেলার ৮ টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, কুমার নদের বিভিন্ন স্থানে পেতে রাখা হয়েছে চায়না দুয়ারি জাল। দামে কম ও সহজলভ্য হওয়ায় পাশাপাশি ব্যবহার হচ্ছে কারেন্ট জাল। এছাড়াও আটঘরের কুষ্টিয়ার চক, গট্টির চুলের বিল, দীঘের বিল ও চাপাদহের বিল, কাগদী বাওর, রামকান্তপুরের মাইঠাদা খাল, শৌলডুবির বিল, খলিশাডুবির বিল, মাঝারদিয়ার বিল কাজুলিডাঙ্গায় যত্রতত্র চলছে চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের ব্যবহার। লোহার চারকোনা ও গোল রিংয়ের সাথে শক্ত নেট জোড়া দিয়ে লম্বা করে তৈরি করা হয় চায়না দুয়ারি জাল। এটা লম্বায় প্রায় ৬০ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে, ফলে নদীর এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত চলে যায়।
পেতে রাখে চায়না জালে, নানা রকম দেশীয় প্রজাতির মাছ ও মাছের পোনা আটকে যায়, এছাড়াও সাপ, ব্যাঙ, কাকড়া, কুচিয়া, শামুক, ঝিনুক সহ জলজ কীটপতঙ্গ একবার যদি জালে ঢুকে পরে আর বের হওয়ার সুজোগ নেই। মাছের সাথে এগুলো ডাঙ্গায় তোলা হলেও আর খাওয়া হয় না। এগুলো ডাঙ্গায় তোলার কারনে মরে যায়, অনেক সময় পঁচে গন্ধ ছড়ায়। দেশীয় প্রজাতির ছোট বড় সব মাছ আটকে পরে এর কিছু খাবার জন্য রেখে বাকি গুলো ফেলে দেওয়া হয়। এর ফলে অন্য মাছগুলো নষ্ট হয়ে যায়। চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের প্রভাবে উপজেলার জলজ পরিবেশ হুমকিতে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কিছু অসাধু জেলে ও সৌখিন মৎস্য শিকারী নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে প্রচুর পরিমানে দেশীয় প্রজাতির মাছ নিধন করছে। মাছ নিধনের পাশাপাশি তারা নানা রকম জলজ প্রাণী ও কিট পতঙ্গ ধ্বংস করছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় প্রজাতির মাছ একদম বিলুপ্ত হয়ে যাবে। মাছে ভাতে বাঙ্গালী নাম হয়েছে দেশীয় মাছের জন্য, সেই দেশীয় প্রজাতির মাছ যদি না থাকে তাহলে আমরা নানা রকম পুষ্টিগুন থেকে দুরে থাকবো। আমাদের নাম আর মাছে ভাতে বাঙ্গালী হবে না। দ্রুত চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের গোড়াসহ সকল প্রকারে বিক্রি বন্ধ করা হোক। মাঠ পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে এসব চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস করা হোক।
উপজেলা মৎস্য অফিসার (অতি: দা:) তরুণ বসু জানান, খুব শিগ্রই আমরা চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবো। এগুলো আমাদের মৎস্য সম্পদ ও জলজ প্রাণী ধ্বংস করছে। উপজেলা বাসিকে বলবো আপনারা কেউ চায়না জাল ব্যবহার করবেন না। যদি কেউ এগুলো ব্যবহার করে তাহলে গোপনে আমাদের জানাবেন, তথ্য দাতার পরিচয় গোপন রেখে আমরা ব্যবস্থা নিবো।